তাপপ্রবাহ, খরা, অনিয়মিত বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা ভারতে সংক্রামক রোগের ধরন বদলে দিচ্ছে বলে জানিয়েছে মোঙ্গাবে-ইন্ডিয়া। এতে জীবাণু কত দিন টিকে থাকে, রোগবাহী পোকা কোথায় থাকে এবং মানুষ, পশু ও জীবাণু কতটা কাছাকাছি আসে, সবই প্রভাবিত হচ্ছে। আইপিই গ্লোবাল ও এসরি ইন্ডিয়ার ২০২৫ সালের এক গবেষণা সতর্ক করেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বড় শহরগুলোতে তাপপ্রবাহ দ্বিগুণ এবং দেশজুড়ে চরম বৃষ্টির ঘটনা ৪৩ শতাংশ বাড়তে পারে।
বেঙ্গালুরুর মণিপাল হাসপাতালের চিকিৎসক সূর্য প্রসাদ বলেন, বন্যার পানি পয়োব্যবস্থা উপচে মানুষ ও পশুর বর্জ্য পানির উৎসে মেশায়, আর গরমে জীবাণু বেশি দিন বাঁচে। কলকাতার ২১ বছরের এক গবেষণায় গ্রীষ্মের তাপ ও বর্ষার শুরুতে কলেরার চূড়া দেখা গেছে; দিল্লি ও মুম্বাইয়ে ভারী বর্ষার পর পানিতে পয়োবর্জ্য মিশে হেপাটাইটিস ই ছড়িয়েছে; চেন্নাইয়ের এক গবেষণায় চরম বৃষ্টির পরের ১৫ দিনে পেটের অসুখে হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি ৬০ শতাংশ বেশি পাওয়া গেছে। প্রসাদের মতে, আগে মূলত বর্ষার আগের গরমে দেখা হেপাটাইটিস এ, ই ও কলেরা গত এক দশকে প্রায় সারা বছরই দেখা যাচ্ছে।
বন্যা পশু থেকে মানুষে রোগ ছড়ানোর পথও বদলায়। লেপটোস্পাইরোসিসের ৮৫ শতাংশের বেশি ঘটনা বর্ষায় ও তার ঠিক পরে, কারণ বন্যা প্রধান বাহক ইঁদুরকে নর্দমা থেকে ঘরে ঠেলে দেয়। ২০১৮ সালের বন্যার পর কেরালায় ১,৩১৮ জন লেপটোস্পাইরোসিসে আক্রান্ত হন, মারা যান ৫৩ জন। অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গৌতম মেনন বলেন, গরমে মশা বেশি দিন বাঁচে ও বংশ বাড়ায়, ফলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও জিকার মৌসুম লম্বা হচ্ছে। হিমালয়ের পাদদেশে আগে ঠান্ডা ছিল এমন উচ্চতায়ও এখন ম্যালেরিয়াবাহী অ্যানোফিলিস মশা টিকে থাকছে, আর ২০২৪ সালে ভারী বৃষ্টির পর পুনেতে জিকা বেড়েছিল।
খরারও আলাদা ঝুঁকি আছে: পানির উৎস শুকালে মানুষ, গবাদিপশু ও বন্যপ্রাণী একই কয়েকটি জায়গায় জড়ো হয়, মানুষ পশুর সঙ্গে ভাগাভাগি করা অনিরাপদ পানি ব্যবহার করে, আর দীর্ঘদিন জমিয়ে রাখা পানিতে মশা জন্মায়।
দুর্বল অবকাঠামো ঝুঁকি আরও বাড়ায়। নর্দমাগুলো বহুদিন নকশা হয়েছে এক-দুই বছরে একবার হওয়া বৃষ্টি, বা তথ্য না থাকলে ঘণ্টায় ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি সামলানোর মতো করে, অথচ মে মাসে বেঙ্গালুরু, দিল্লি ও মুম্বাইয়ে ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ সালের এক নিরীক্ষায় দেখা যায়, অনেক শহরের ভূগর্ভস্থ নর্দমার হালনাগাদ মানচিত্রই নেই; আসামের ৪,৮০০ কিলোমিটারের বেশি বাঁধের প্রায় ৬০ শতাংশ মেরামত প্রয়োজন। ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক সিতারা এস আর আজ্জামপুর বলেন, ভাঙা পাইপ ও শৌচাগারের চুইয়ে পড়া বর্জ্যে ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত হওয়া থেকে ভারতের কোনো অঞ্চলই নিরাপদ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগ ছড়ানোর পর সাড়া না দিয়ে নজরদারি, বিনিয়োগ ও জলবায়ু-সহনশীল পরিকল্পনায় আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা দরকার।
প্রতিবেদনটি মোঙ্গাবে-ইন্ডিয়ার জন্য লিখেছেন প্রিয়াঙ্কা শংকর।
ছবি: Army Medicine / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Mongabay India





মন্তব্য
(০)