যন্ত্র দিয়ে সারিতে ধানের বীজ বোনা আর একই সঙ্গে সার মাটির গভীরে বসানোর একটি পদ্ধতিতে ভিয়েতনামের রেড রিভার বদ্বীপে উৎপাদন খরচ গড়ে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (IRRI, ইরি)। ১৬ অক্টোবর নিন বিন প্রদেশের এনঘিয়া সন কমিউনে এক কর্মশালায় ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়; সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, সমবায়, কৃষক, কোম্পানি ও উন্নয়ন সহযোগী মিলিয়ে প্রায় ১০০ জন সেখানে ছিলেন।
নিন বিনের কৃষি ও পরিবেশ বিভাগ এবং ভিয়েতনাম গ্রিন অ্যাগ্রিকালচার ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট গ্রুপের (VAG Group) সঙ্গে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ২ দশমিক ২ হেক্টরের প্রদর্শনী প্লটটি করা হয়। সেখানে এলপি৫ জাতের ধান চাষ হয় ‘যান্ত্রিক সারি-সরাসরি বপন ও গভীরে সার প্রয়োগ’ (mDSR-FDP) প্রযুক্তিতে, যা তৈরি করেছে ইরি ও তু সাং কৃষিযন্ত্র কোম্পানি। বীজ আর সার একসঙ্গে নির্দিষ্ট জায়গায় বসানোয় শ্রম কম লাগে, উপকরণের অপচয়ও কমে।
তিন মাস পর দেখা যায়, ছিটিয়ে বোনা এবং যন্ত্রে বা হাতে রোপণের তুলনায় হেক্টরপ্রতি গড়ে প্রায় ৯৩ লাখ ডং (৩৫৯ মার্কিন ডলার) খরচ কম হয়েছে। চারা প্রতিষ্ঠার খরচ হেক্টরপ্রতি ৫০ লাখ ডংয়ের (১৯৩ ডলার) বেশি থেকে নেমেছে ১৬ লাখ ৭০ হাজার ডংয়ে (৬৪ ডলার), সারের খরচ ৯৭ লাখ ডং (৩৭৫ ডলার) থেকে ৫৭ লাখ ডংয়ে (২২০ ডলার)। হেক্টরপ্রতি নিট মুনাফা বেড়েছে ৫০ লাখ ডংয়ের (১৯৩ ডলার) বেশি।
পদ্ধতিটি ‘৪আর’ পুষ্টি ব্যবস্থাপনা মেনে চলে: সঠিক উৎসের সার, সঠিক মাত্রায়, সঠিক সময়ে, সঠিক স্থানে। ধানের খড় থেকে জৈব সার বানানো হয়, তাতে খড় পোড়ানোও কমে। তিনটি সার কোম্পানি, এমটিকে-ইনোভা অ্যাগ, বায়োউইশ ও বিওএফ/এএমটি, মার্কিন প্রযুক্তি ও উপকরণে তৈরি পণ্য প্লটে পরীক্ষা করেছে। ইরির জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. নগুয়েন ভান হুং বলেন, রেড রিভার বদ্বীপের পরিবেশ ও চাষাভ্যাসের সঙ্গে মানানসই একটি সমন্বিত সমাধান তৈরিই মডেলটির বৈজ্ঞানিক মূল্য। হ্যানয়ে মার্কিন দূতাবাসের কৃষি কাউন্সেলর মার্ক পেট্রি বলেন, উন্নত সার ও এই যন্ত্রের মতো প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে বেসরকারি খাত অপরিহার্য।
তবে খণ্ড খণ্ড জমি, এলাকাজুড়ে অসমান চাষের সময়সূচি আর যন্ত্রসেবার সীমিত সুযোগ এই প্রযুক্তি ছড়ানোর পথে বাধা; ইরি মনে করে, উৎপাদন সমন্বয় ও চর্চা এক রকম করতে সমবায়গুলোর বড় ভূমিকা আছে। নিন বিনের কৃষি ও পরিবেশ বিভাগের উপপরিচালক নগুয়েন সিন তিয়েন বলেন, উদ্ভাবনকে কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অবস্থার উপযোগীও হতে হবে। ২০২৭ সালের বসন্ত মৌসুমেও পরীক্ষা চলবে। কাজটিতে সহায়তা দিয়েছে ইউএসডিএর ফার্টিলাইজ রাইট প্রকল্প এবং সিজিআইএআরের দুটি কর্মসূচি।
ছবি: Doron / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: IRRI




মন্তব্য
(০)