চারটি আলাদা খরাসহনশীল জিন একসঙ্গে বহন করা ধানের প্রজনন লাইন পানির অভাবে মূল জাতের চেয়ে ৩৬ থেকে ৮২ শতাংশ বেশি ফলন দিয়েছে বলে ‘ইন্ডিয়ান জার্নাল অব জেনেটিকস অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং’-এ জানিয়েছেন ভারতীয় গবেষকেরা। লাইনগুলো তৈরি হয়েছে মার্কার-সহায়িত প্রচলিত সংকরায়ণে, জিন প্রকৌশলে নয়—তাই জিএম খাদ্যফসলকে ভারতের মাঠ থেকে দূরে রাখা নিয়ন্ত্রক বাধা এতে নেই।
গবেষণাটি করেছেন হায়দরাবাদের মাল্লা রেড্ডি ইউনিভার্সিটি (Malla Reddy University), আইসিএআর-ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব রাইস রিসার্চ, উমিয়ামের সেন্ট্রাল এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি এবং নয়াদিল্লির আইসিএআর-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যান্ট বায়োটেকনোলজির বিজ্ঞানীরা। তাঁরা ‘কিউটিএল পিরামিডিং’ পদ্ধতিতে তৈরি ৪০টি লাইন মূল্যায়ন করেন—এই পদ্ধতিতে একটি বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যুক্ত একাধিক জিনগত অঞ্চল একটি গাছে জড়ো করা হয়। লাইনগুলোতে ছিল খরাসহনশীল কিউটিএল qDTY1.1, qDTY2.1, qDTY2.2 ও qDTY3.1-এর নানা সমন্বয়।
৪০টির মধ্যে পাঁচটি লাইন—QTV 108-4, QTV 108-3, QTV 189-2, QTV 128-4 ও QTV 105-1—আলাদা করে নজর কেড়েছে: খরার চাপে অপরিবর্তিত DRR Dhan 50-এর চেয়ে দানার ফলন ৩৬ থেকে ৮২ শতাংশ বেশি। এই কর্মক্ষমতার পেছনের বৈশিষ্ট্যগুলোতে উচ্চ বংশগতি ও জিনগত অগ্রগতির মানও মিলেছে, অর্থাৎ সাধারণ নির্বাচনেই পরের প্রজন্মে এই উন্নতি নির্ভরযোগ্যভাবে যাওয়ার কথা।
গবেষণায় দেখা গেছে, পানির অভাবে ফলন রক্ষায় সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত দুটি গৌণ বৈশিষ্ট্য হলো স্পাইকলেটের উর্বরতা ও হারভেস্ট ইনডেক্স—মৌসুম শেষের ফলনের অপেক্ষায় না থেকে প্রজননবিদেরা এ দুটি মাপা লক্ষ্য ধরে নির্বাচন করতে পারবেন। প্রিন্সিপাল কম্পোনেন্ট বিশ্লেষণে প্রথম দুই উপাদানই ৪০টি লাইনের জিনগত ভিন্নতার প্রায় অর্ধেক ব্যাখ্যা করেছে, ফলে আরও পরিশোধনের মতো বৈচিত্র্য এই লাইনগুলোতে আছে।
কিউটিএল পিরামিডিং যেহেতু মার্কার-সহায়িত প্রচলিত প্রজনন, তাই এভাবে পাওয়া জাতকে ট্রান্সজেনিক বা জিন-সম্পাদিত ফসলের মতো জৈবনিরাপত্তা অনুমোদন ও জনগ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে পড়তে হয় না। ভারত এখন পর্যন্ত একটিমাত্র জিএম ফসল—বিটি তুলা—অনুমোদন করেছে, কোনো জিএম খাদ্যফসল নয়; তাই জলবায়ু-সহনশীল ধান পৌঁছে দিতে এ ধরনের প্রচলিত পথই সেখানে প্রধান।
নিশ্চিত সেচ ছাড়া বৃষ্টিনির্ভর ধান পূর্ব ও মধ্য ভারতের বিশাল এলাকা এবং আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় অংশ জুড়ে চাষ হয়, যেখানে শুকনো দফায় ফলন হারানো কৃষকের আয়ের অন্যতম বড় বাধা। ফলাফলটি এল এমন এক খরিফ মৌসুমে, যখন ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বড় বৃষ্টিঘাটতির খবর এসেছে—ঠিক এমন বছরের জন্যই এই লাইনগুলো তৈরি।
সূত্র: AgroPages

মন্তব্য
(০)