তিরুবনন্তপুরম জেলার মারিয়ানাদ গ্রামের এক জেলে এ বছরের জুলাইয়ে অবাক হয়েছিলেন: যে বছর এল নিনোর কারণে সাগর গরম হওয়ার কথা, সে বছর সাগর আগের জুলাইগুলোর চেয়ে ঠান্ডা মনে হচ্ছিল। Mongabay India (মঙ্গাবে ইন্ডিয়া)-য় এক মতামত নিবন্ধে এর কারণ ব্যাখ্যা করেছেন জন কুরিয়েন, যিনি পাঁচ দশক ধরে ক্ষুদ্র জেলেদের সঙ্গে কাজ করছেন এবং তিরুবনন্তপুরমের সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের সাবেক অধ্যাপক। মতামত লেখকের নিজস্ব।
সেই জেলে জানান, সাগর উত্তাল ছিল, তবু নৌকা যাচ্ছিল, কারণ গভীর পানিতে প্রচুর মাছ ছিল আর ঘোলা পানিতে জালে মাছ সহজে ধরা পড়ছিল। কম নৌকা মাছ নিয়ে ফেরায় ঘাটে দাম ছিল চড়া, আয়ও ভালো।
কুরিয়েন ব্যাখ্যা করেন, এল নিনো হলো ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণায়ন, যার নাম দিয়েছিলেন পেরু ও ইকুয়েডরের জেলেরা। এটি ক্রান্তীয় অঞ্চলের চাপের ধরন বদলে দেয় এবং প্রায়ই ভারতমুখী আর্দ্র বাতাস দুর্বল করে। তবে এটি প্রবণতা, নিয়ম নয়: ভারত মহাসাগরের নিজস্ব চক্র ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল এর প্রভাব কাটিয়ে দিতে পারে, তাই কোনো এল নিনো বছরে ভারতে বর্ষা দুর্বল হয়, কোনো বছরে স্বাভাবিক থাকে।
মারিয়ানাদের ঠান্ডা পানির কারণ স্থানীয়। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু কেরালার উত্তর-দক্ষিণমুখী উপকূলের সমান্তরালে বয়ে ওপরের পানি সাগরের দিকে ঠেলে দেয়, আর নিচ থেকে ঠান্ডা, পুষ্টিসমৃদ্ধ পানি উঠে আসে। একে বলে আপওয়েলিং, আর এ কারণেই বর্ষা এখানে বরাবর মাছ ধরার ভালো মৌসুম। গবেষণায় এর সবচেয়ে জোরালো বলয় প্রায় ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশে, যার ভেতরেই মারিয়ানাদ। লেখকের মতে, মহাসাগরজুড়ে উষ্ণায়ন আর উপকূলে স্থানীয় শীতলতা একসঙ্গে ঘটতে পারে; সৈকতে দাঁড়ানো জেলে কেবল স্থানীয়টিই টের পান।
কুরিয়েন জানান, দক্ষিণ কেরালার উপকূলীয় পানিতে শতাধিক প্রজাতির উদ্ভিদপ্লাংকটন আছে, আর এই উপকূলে মাছের প্রজাতি ও মাছ ধরার সরঞ্জামের বৈচিত্র্য অস্বাভাবিক রকম বেশি। দুটির মধ্যে সম্পর্ক থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন, তবে তা প্রতিষ্ঠিত গবেষণা নয়, তাঁর নিজের অনুমান বলে স্পষ্ট করেছেন।
তাঁর মূল কথা, সাগর উষ্ণ হওয়া ও বর্ষা অনিয়মিত হওয়ায় জেলেদের উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সংকেত, মেঘ, বাতাস ও বৃষ্টির সময়, আগের মতো নির্ভরযোগ্য থাকছে না। এসব পরিবর্তন তথ্যে ধরা পড়ার অনেক আগেই জেলেরা টের পান, তাই তাঁদের পর্যবেক্ষণ গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত বলে মত দেন তিনি।
ছবি: Vyacheslav Argenberg / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: Mongabay India




মন্তব্য
(০)