সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৫°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৯০%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

৫ মাদরাসাছাত্রীর চমক, মসুর ডালের জিনে হবে ‘সুপার ব্যানানা’

স্বাদ অপরিবর্তিত রেখেই কলাকে করা যাবে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ। এজন্য ব্যবহার করা হবে মসুর ডালের জিন। টাঙ্গাইলের কুরতুবী মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের পাঁচ ছাত্রী এমনই এক উদ্ভাবন সামনে এনেছেন।

স্বাদ অপরিবর্তিত রেখেই কলাকে করা যাবে উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ। এজন্য ব্যবহার করা হবে মসুর ডালের জিন। টাঙ্গাইলের কুরতুবী মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের পাঁচ ছাত্রী এমনই এক উদ্ভাবন সামনে এনেছেন।

চলতি বছরের মার্চ মাসের ঘটনা। জীববিজ্ঞানের ল্যাব ক্লাসে ডিএনএ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সময় ছাত্রীদের মাথায় একটি আইডিয়া আসে। পুষ্টিগুণে অনন্য হলেও সাধারণ কলায় একটি বড় ঘাটতি রয়েছে। এতে মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ‌'লাইসিন' নামের অ্যামাইনো অ্যাসিডের পরিমাণ খুবই কম। যেই ভাবা সেই কাজ। শিক্ষক আরিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে শুরু হয় তাদের গবেষণা। এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয় 'প্রোটিনসমৃদ্ধ কলা তৈরির জন্য কলার ডিএনএ নিষ্কাশন ও রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ মডেল'।

আধুনিক জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই মডেলে প্রোটিনের উৎস হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে অতি পরিচিত মসুর ডালকে। এই ডাল থেকে ডিএইচডিপিএস জিন নির্বাচন করা হয়েছে, যা মানবদেহের বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকর। অত্যন্ত সহজলভ্য কিছু উপাদান পাকা কলা, লবণ, গরম পানি, ডিশ ওয়াশিং লিকুইড, বেন্ডার, কফি ফিল্টার ও ইথানল ব্যবহার করে প্রথমে কলার ডিএনএ নিষ্কাশন করা হয়। এরপর তাত্ত্বিক মডেলের সাহায্যে ডালের সেই বিশেষ জিনটি কলার ডিএনএতে সংযুক্ত করার রূপরেখা তৈরি করেন শিক্ষার্থীরা। এতে সাধারণ কলা রূপান্তরিত হবে প্রোটিনসমৃদ্ধ 'সুপার ফুডে'।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের বিজ্ঞান মেলায় প্রকল্পটি প্রথম স্থান অধিকার করে। পরবর্তীতে বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় হয়ে তারা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় অংশ নেন।

এই উদ্ভাবনের সঙ্গে জড়িত আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী অনামিকা আলফী আমরি বলেন, 'বাংলাদেশ এখনো পুষ্টিহীনতা, বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের প্রোটিনের ঘাটতিজনিত সমস্যায় ভুগছে। এই উদ্ভাবন যদি মাঠপর্যায়ে সফল করা যায়, তবে তা দেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে।'

মিফতাহুল জান্নাত মায়া বলেন, 'কলা অত্যন্ত সস্তা ও সব স্তরের মানুষের কাছে সহজলভ্য। প্রোটিনসমৃদ্ধ এই কলা দেশের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।'

ফাতেমাতুজ জহুরা বলেন, 'কৃত্রিম সাপ্লিমেন্ট বা রাসায়নিকের ওপর নির্ভর না করে প্রাকৃতিকভাবেই ফল ও ফসলের পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।'

আরেক শিক্ষার্থী মেঘলা আক্তার বলেন, 'জেনেটিক্যালি মডিফাইড এই কলা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সম্ভব হলে কৃষকরা লাভবান হবেন। পুষ্টিকর ফল হিসেবে এটি বিদেশে রপ্তানি করাও সম্ভব।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, 'শিক্ষার্থীদের জানার আগ্রহ অনেক বেশি। ওদের একটু ধারণা দেওয়া হলে ওরা ভালো কিছু করতে পারবে। ছাত্রীরা দেখিয়েছে, জিন ট্রান্সফারের মাধ্যমে কীভাবে অত্যাবশকীয় অ্যামাইনো এসিড সমৃদ্ধ প্রোটিন উৎপাদন করা যায়।'

কুরতুবী আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম বলেন, 'আমরা দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতেও বিজ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।'

আব্দুল্লাহ আল নোমান/এসআর/জেআইএম

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

ফসল

সম্পর্কিত খবর

মতামত

ফলন নয়, কৃষকের হাতে কত টাকা থাকল সেটাই আসল পরীক্ষা: অধ্যাপক মোজাম্মেল হক

নয়া দিগন্তে ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের কলাম: কৃষকের ন্যায্য দাম, দরকষাকষির শক্তি, দুর্যোগে সুরক্ষা, প্রকৃত চাষির হাতে ঋণ-ভর্তুকি আর গ্রামের শিক্ষা-চিকিৎসাকে কৃষিনীতির কেন্দ্রে আনার আহ্বান। মত লেখকের নিজের।

নয়া দিগন্ত২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

গাবতলীতে ৬ হাজার টনের সার গুদাম, বিএডিসির ২০০ গুদামের হিসাব ডিজিটালে রাখার নির্দেশ

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বিএডিসির নতুন গুদাম উদ্বোধন করে বলেছেন, মজুত থাকলেই হবে না, সময়মতো ন্যায্য দামে সার কৃষকের হাতে পৌঁছাতে হবে।

কৃষি সময়২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

ঘিওরের ৩০০ বছরের হাটে প্রতি বুধবার কোটি টাকার পাট, মণ ৪,৬০০-৫,৩০০ টাকা

মানিকগঞ্জের ঘিওর হাটে প্রতি বুধবার গড়ে ৫-৬ হাজার মণ পাট ওঠে; এবার দাম ভালো, তবে পানির অভাবে পাট পচাতে ভোগান্তি আর নদীভাঙনে হাট ছোট হয়ে আসছে।

কৃষি সময়২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)