ফ্রান্সে অক্টোবরের শুরুতে শামোন্ডা ভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগী মারা গেছেন। কর্তৃপক্ষের ভাষায়, এই ভাইরাসে মানুষের সংক্রমণের এটিই প্রথম জানা ঘটনা; এত দিন ভাইরাসটি শুধু প্রাণীতে, মূলত গবাদিপশুতে পাওয়া গিয়েছিল। খবরটি দিয়েছে ডাউন টু আর্থ। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকি এখনো শনাক্ত হয়নি।
রোগীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল ছিল এবং তিনি একটি গুরুতর অসুখের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, তাই সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, তিনি এমন এলাকায় ছিলেন যেখানে প্রাণীর মধ্যে ভাইরাসটি ছড়াচ্ছিল এবং কিউলিকয়েডিস (Culicoides) নামের ক্ষুদ্র কামড়ানো মাছি ছিল, যা কিছু প্রাণিজ ভাইরাস বহন করতে পারে। বিবিসি নিউজ জানিয়েছে, তিনি পূর্ব ফ্রান্সে সংক্রমিত হন, যেখানে বসন্তে প্রথম প্রাণীর মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ে।
বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থার (WOAH) তথ্য অনুযায়ী, শামোন্ডা ভাইরাস প্রথম ১৯৬৫ সালে নাইজেরিয়ায় গরু থেকে আলাদা করা হয়; পরে আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের নানা অংশে পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক বেশির ভাগ ঘটনা গরুতে, তবে ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া ও আলপাকাতেও সংক্রমণ নথিভুক্ত হয়েছে। ধারণা করা হয়, এটি ছোট মাছির কামড়ে ছড়ায়।
প্রাণীর ক্ষেত্রে জ্বর, ডায়রিয়া, দুধ কমে যাওয়া এবং গর্ভপাত ও ভ্রূণের বিকৃতিসহ প্রজনন সমস্যার কথা জানিয়েছে ডব্লিউওএএইচ; স্নায়বিক উপসর্গ তুলনামূলক কম দেখা যায়। ভাইরাসটির বিরুদ্ধে বাজারে কোনো টিকা নেই।
ডব্লিউএইচও বলেছে, ভাইরাসটি কীভাবে মানুষের দেহে পৌঁছায়, তা বুঝতে আরও গবেষণা দরকার। সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়েসুস জানান, তাঁরা ফরাসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন; রোগী কীভাবে সংক্রমিত হলেন, সংক্রমণের সম্ভাব্য পথ কী এবং জনস্বাস্থ্যে কোনো ঝুঁকি আছে কি না, তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন শগুন।
ছবি: Scott Bauer, USDA ARS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ



মন্তব্য
(০)