নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো যাতে টেকসই উন্নয়নে প্রাণিসম্পদ খাতকে কাজে লাগাতে পারে, সে জন্য বহুবর্ষী উদ্যোগ লাইভস্টক ফিউচারস শুরু করেছে আন্তর্জাতিক প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইএলআরআই)। যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়ার ডেময়েনে ২০২৬ সালের বোরলগ সংলাপে এটি ঘোষণা করা হয়।
আইএলআরআইয়ের হিসাবে, এসব দেশে কৃষি জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ আসে প্রাণিসম্পদ থেকে, আর বিশ্বজুড়ে ১৭০ কোটি মানুষের জীবিকা এর ওপর নির্ভরশীল। তবু জাতিসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রাণিজ খাবারসহ স্বাস্থ্যকর খাদ্য প্রায় ২৭০ কোটি মানুষের নাগালের বাইরে; আফ্রিকায়, যেখানে ২০৫০ সালের মধ্যে এমন খাবারের চাহিদা দ্বিগুণ হবে বলে পূর্বাভাস, সেখানে দামও সবচেয়ে বেশি।
উদ্যোগটি ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর একটি অগ্রাধিকার বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের এক করে তথ্যের ঘাটতি পূরণ এবং বিভিন্ন উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য সমাধানের রূপরেখা দেবে। সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনায় চিহ্নিত চারটি অগ্রাধিকার: জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তা; জলবায়ু, প্রাকৃতিক সম্পদ ও ওয়ান হেলথ; জলবায়ু পদক্ষেপ ও খাদ্য নিরাপত্তা; এবং জলবায়ু পদক্ষেপ ও জীবিকা। এর ভিত্তি জাতের জিনগত উন্নয়ন, প্রাণীর টিকা আর সূচকভিত্তিক পশুসম্পদ বিমার মতো আগের কাজ।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, পুষ্টি, জীবিকা, ওয়ান হেলথ ও পরিবেশ নিয়ে গবেষণায় প্রাণিসম্পদ প্রায়ই অনুপস্থিত; নিঃসরণ ও প্রাণীর জলবায়ু ঝুঁকির তথ্য অন্য উন্নয়ন ফলাফলের সঙ্গে খুব কমই যুক্ত হয়; আর অনেক গবেষণা যাযাবর, ক্ষুদ্র ও নিবিড় খামারব্যবস্থাকে আলাদা করে দেখে না।
আইএলআরআইয়ের মহাপরিচালক অধ্যাপক অ্যাপোলিনেয়ার জিকেং বলেন, প্রাণিসম্পদ শুধু পণ্যের উৎস নয়, কোটি কোটি মানুষের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, জীবিকা আর সহনশীলতার ভিত্তি। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিস ও আইওয়া স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আয়োজিত সংলাপের প্রাণিসম্পদ অধিবেশনটিই প্রথমবার এর মূল পর্বে প্রাণিসম্পদকে জায়গা দিল। পরামর্শ চলছে, প্রথম প্রকাশনা আসবে ২০২৭ সালে।
ছবি: Johntez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ILRI





মন্তব্য
(০)