অবহেলিত অথচ সম্ভাবনাময় জলজ সম্পদ কুচিয়া মাছ থেকে বৈদেশিক আয় বাড়ানোর পথ খুলছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উদ্ভাবিত ক্যানিং প্রযুক্তি। দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদক মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর জানাচ্ছেন, ড. পরেশ কুমার শর্মার নেতৃত্বে গবেষক দল উন্নত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, জীবাণুমুক্ত প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মানসম্মত প্যাকেজিংয়ে কুচিয়ার নিরাপদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণযোগ্য ক্যানড পণ্য তৈরি করে পরীক্ষামূলক সাফল্য পেয়েছে।
ড. পরেশ কুমার শর্মা জানান, বাণিজ্যিক কুচিয়া চাষ ও রপ্তানি দ্রুত বিকাশমান খাত; বর্তমানে জাপান, চীন, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ প্রায় ১৫টি দেশে কুচিয়া রপ্তানি হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট উৎপাদন ছিল ১৫ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন, যার ৯ হাজার ৯৪৭ টন রপ্তানি করে প্রায় ৭৫২ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে।
উচ্চ প্রোটিন, ক্যালসিয়াম-ফসফরাস-আয়রন, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স ও ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ কুচিয়াকে আন্তর্জাতিক বাজারে ‘হাই ভ্যালু অ্যাকুয়াটিক রিসোর্স’ ধরা হয়; দেশের প্রাণিজ আমিষের ৬০ শতাংশের বেশি মাছ থেকে আসে এবং মৎস্যপণ্য ৫০টির বেশি দেশে যায়, যার বড় অংশ এখন মূল্য সংযোজিত পণ্যের দিকে ঝুঁকছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক খাদ্যনিরাপত্তা মানদণ্ডে পণ্যের গুণগত স্থায়িত্ব ও ভোক্তা-নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ায় ক্যানড কুচিয়া রপ্তানিযোগ্য পণ্য হিসেবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে; তবে উৎপাদন ব্যয়, বাজার চাহিদা, রপ্তানি সক্ষমতা, ভোক্তার গ্রহণযোগ্যতা ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে আরও গবেষণা এবং উদ্যোক্তা, কৃষক, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, দাতা সংস্থা ও বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে গবেষকেরা মনে করেন।
‘ছোট একটি ক্যানের ভেতর লুকিয়ে রয়েছে অপার সম্ভাবনা,’ বলেন বাকৃবির এই বিশেষজ্ঞ; তাঁর মতে কুচিয়া মৎস্য খাতের ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে এবং আধুনিক ক্যানিং ও আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি—এই দুই হাতিয়ারে একসময়ের অবহেলিত মাছ বৈদেশিক মুদ্রার বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: দেশ রূপান্তর — প্রতিবেদন: মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর





মন্তব্য
(০)