চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ডায়ালাইসিস সেন্টার চালানো স্যান্ডর ডায়ালাইসিস সার্ভিসেস বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হচ্ছে। এতে সরকারি ভর্তুকিতে মাত্র ৬২১ টাকায় প্রতিবার ডায়ালাইসিস নেওয়া ২৭৬ জন গরিব ও মধ্যবিত্ত কিডনি রোগীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
২০১৬ সালের নভেম্বরে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি হয়, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৯ নভেম্বর। গত বছরের ২৫ মে পিপিপি কর্তৃপক্ষের এক সভায় চুক্তি আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল; শর্ত অনুযায়ী মেয়াদ শেষে স্যান্ডর যন্ত্রপাতি ও জনবল সরিয়ে নিত। উদ্বিগ্ন রোগীরা ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ডায়ালাইসিস সেন্টার রক্ষা কমিটির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত সেবা চালু রাখার দাবি জানান।
স্যান্ডর ঢাকার জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটে ৫৯টি এবং চমেকে ৩১টি মেশিনে ডায়ালাইসিস দেয়। প্রতি সেশনের ফি ৩ হাজার ৩৯৭ টাকা; রেফার করা গরিব রোগীরা দেন ৬২১ টাকা, বাকিটা সরকার ভর্তুকি দেয়। সিঙ্গেল ডায়ালাইজারের ফি ১ হাজার ৩২০ টাকা। মুক্তিযোদ্ধা ও অতিদরিদ্র কিছু রোগী বিনা মূল্যে সেবা পান; বছরে ৬৫০ জনকে এই সুবিধা দেওয়ার সুযোগ আছে। একজন রোগী মাসে সর্বোচ্চ আটটি সেশন পান।
চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, রোগীদের সেবা অব্যাহত রাখতে চুক্তি আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই সময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একই জায়গায় সরকারিভাবে ডায়ালাইসিস মেশিন বসানোর প্রস্তুতি, মেশিন কেনা ও জনবল নিয়োগ শেষ করা হবে। তিনি জানান, স্যান্ডর প্রতিবছর সেবামূল্য ৫ শতাংশ বাড়ায় এবং গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের খরচ হাসপাতাল বহন করে; সরকারি ব্যবস্থায় চালু হলে রোগীরা প্রতি সেশন ৪১৬ টাকায় ডায়ালাইসিস পাবেন।
সেন্টারে সেবা নেওয়া রোগীরা বলেন, সেবা বন্ধ হলে তাঁরা চরম বিপদে পড়তেন; ডায়ালাইসিসের বাইরে নিয়মিত ওষুধের খরচও আছে, আর বেশির ভাগ রোগীর মাসে আটটি পর্যন্ত সেশন লাগে।
ছয় মাসের এই সময়ের মধ্যে সরকারি সেন্টার চালু না হলে একই সংকট আবার ফিরতে পারে, তাই রোগীদের নজর এখন নতুন মেশিন কেনা ও নিয়োগের অগ্রগতির দিকে। প্রতিবেদনটি দৈনিক আজাদীর জাহেদুল কবিরের।
ছবি: Shahinur70 / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: দৈনিক আজাদী





মন্তব্য
(০)