ভারতে জুন-সেপ্টেম্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম বর্ষা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের (এলপিএ) ৯০ শতাংশের কম বৃষ্টি নিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে, আর বৃষ্টির বণ্টনও ছিল খুবই অসম। বিশেষজ্ঞ ও কৃষিপণ্য ব্যবসায়ীদের মতে, এতে কয়েকটি খরিফ ফসল, বিশেষ করে ধান, ডাল ও তেলবীজের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। খবরটি দিয়েছে ভারতের দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস। টানা দুই বছর স্বাভাবিকের বেশি বর্ষার পর গত বছর খরিফ উৎপাদন রেকর্ড ১৭ কোটি ৬০ লাখ টনে পৌঁছেছিল।
রোববার পর্যন্ত ঘাটতি ছিল ১১.৯ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিজ্ঞানী অক্ষয় দেওরস (Akshay Deoras) বলেন, দেশজুড়ে প্রায় ১২ শতাংশ ঘাটতি রেখে দ্রুত বর্ষা বিদায়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে; এবারের বর্ষায় এল নিনোর প্রভাব ছিল প্রবল, আর ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোলের ইতিবাচক পর্যায় শেষ পর্যন্ত আসেনি। প্রায় ৭৪০টি জেলার মধ্যে ৩০৯টিতে, অর্থাৎ ৪২ শতাংশে, বৃষ্টি ঘাটতি বা বড় ঘাটতি।
মধ্য ভারতে বৃষ্টি স্বাভাবিক হলেও উত্তর-পশ্চিমে ৬.৩ শতাংশ, পূর্ব ও উত্তর-পূর্বে ২৪.৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ উপদ্বীপে ২৩.৪ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। অড়হর, সয়াবিন, ভুট্টা ও ধান এখন ফুল আসার পর্যায়ে। ১৮ শতাংশ ঘাটতির মহারাষ্ট্র তাদের ৩৫৮টি তালুকের মধ্যে ২৬৫টিতে খরা ঘোষণা করেছে; রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দত্তাত্রেয় ভারনে জানান, সয়াবিন, তুলা, ভুট্টা, জোয়ার, বাজরা, ধান, অড়হর, মুগ ও মাষকলাইয়ে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে, ফসলের ক্ষয়ক্ষতি জরিপ শুরু হয়েছে। ৩০ শতাংশ ঘাটতির কর্ণাটক নতুন ২৩টি তালুক যোগ করে খরাকবলিত তালুকের সংখ্যা ১২৪-এ নিয়েছে। আখের ফলনও কমতে পারে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে খরিফ আবাদ ১০ কোটি ৯৪ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর, গত বছরের চেয়ে ১.২ শতাংশ কম; ক্রিসিল ইন্টেলিজেন্সের ধারণা, চূড়ান্ত আবাদ শূন্য থেকে ১ শতাংশ কম হবে। জুনে বৃষ্টি ৩৬ শতাংশ কম ছিল, জুলাইয়ে গড়ের চেয়ে ১ শতাংশ বেশি হয়ে আবাদে গতি আনে, আগস্টে আবার ১৬.৩ শতাংশ কম; মধ্যাঞ্চল ছাড়া সব অঞ্চলেই ঘাটতি ছিল। সেপ্টেম্বরের জন্যও আবহাওয়া দপ্তর স্বাভাবিকের কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল।
কৃষি মন্ত্রণালয় এখনো খরিফ উৎপাদনের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করছে; সোমবার রাজ্যগুলোকে নিয়ে রবি মৌসুমের জাতীয় সম্মেলন হবে। এবারের বর্ষা ২০১৪ সালের পর সবচেয়ে কম বৃষ্টির হতে পারে; এর আগে ঘাটতির বর্ষা ছিল ২০০২ (-২০.৯ শতাংশ), ২০০৯ (-২২ শতাংশ), ২০১৪ (-১২ শতাংশ) ও ২০১৫ সালে (-১৪ শতাংশ)। প্রতিবেদনটি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সন্দীপ দাসের (Sandip Das)।
ছবি: Akshaypadte / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: Financial Express Agriculture





মন্তব্য
(০)