দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার সীট আলোকডিহি গ্রামের কৃষক মো. ময়েজ উদ্দিন (৫৫) এবার ২২ শতক জমিতে হাইব্রিড আর্লি-৪৫ জাতের গ্রীষ্মকালীন শিম চাষ করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় খরিপ-২ মৌসুমে এ চাষ। বুধবার (৮ অক্টোবর) তাঁর ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, মাচাজুড়ে ফুল আর কচি শিম ঝুলছে; পরিচর্যা, শিম তোলা ও বাজারজাত করায় ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁর।
ময়েজ উদ্দিন জানান, ২২ শতকে এ পর্যন্ত তাঁর খরচ প্রায় ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এখনকার ফলনের ধারায় প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকার শিম বিক্রির আশা করছেন তিনি। প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি বিকল্প ও লাভজনক ফসলের চিন্তা থেকেই গ্রীষ্মকালীন শিমে আসা; ভবিষ্যতে আরও জমিতে এ জাত চাষের পরিকল্পনা আছে তাঁর।
তাঁর শিম দেখে একই এলাকার কৃষক মো. কাশেম আলীসহ আরও কয়েকজন চলতি মৌসুমে শিম চাষ করেছেন। এতে এলাকায় গ্রীষ্মকালীন শিমের আবাদ বাড়ছে এবং বিকল্প সবজি চাষে কৃষকের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
খানসামা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল বিন আমিন বলেন, ময়েজ উদ্দিনকে নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর্লি-৪৫ জাতটি গ্রীষ্মকালে চাষের উপযোগী হওয়ায় ভালো ফলনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানান, মৌসুমভেদে ফসলে বৈচিত্র্য আনা এবং একই জমিতে বেশি লাভজনক ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে কৃষকদের উন্নত জাত ও নতুন প্রযুক্তিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বাসসকে বলেন, এবার জেলার ১৩টি উপজেলাতেই কৃষি বিভাগ থেকে আর্লি-৪৫ শিমের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। গত বছর পরীক্ষামূলক চাষে কৃষকেরা বেশি লাভবান হয়েছিলেন। এ জাতের শিম খেতে সুস্বাদু, বাজারে চাহিদাও আছে, তাই আগামীতে আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
প্রতিবেদনটি দিনাজপুর থেকে বাসসের।
ছবি: Fanghong / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0); শিমের ফুল ও কচি শিমের প্রতীকী ছবি
সূত্র: বাসস




মন্তব্য
(০)