যমুনার পানি কমে যাওয়ায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর, যেখানে এখন সবুজ ঘাস আর কাইশার সমারোহ। এই ঘাস ও কাইশা কেটে হাটে বিক্রি করেই সংসার চালাচ্ছেন উপজেলার হাজারো দরিদ্র পরিবার। মাইজবাড়ী, খাসরাজবাড়ী, শুভগাছা, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, মনসুর নগর ও চরগিরিশ ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে এই বেচাকেনার চিত্র দেখা গেছে।
চরাঞ্চলে গো-খাদ্যের সংকট সব সময়ই থাকে, যমুনা উত্তাল হলে তা আরও বাড়ে। অসময়ে পানি বেড়ে নিচু জমি আর বাড়ির আঙিনা তলিয়ে গেলে ঘাসের চাহিদা বাড়ে, আর সেই চাহিদা থেকেই অনেকে ঘাস বিক্রিকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। মেঘাই, ঢেকুরিয়া, কুমারিয়াবাড়ী, জর্জিরা, পানাগাড়ী, রঘুনাথপুর, গুলমোড় ও শুভগাছায় এখন সকাল-বিকেল ঘাসের হাট বসে। যমুনার তীরের যে বাজারগুলো একসময় টাটকা মাছের জন্য পরিচিত ছিল, সেগুলো এখন পরিচিত ঘাসের বাজার নামে।
হাটে নেপিয়ার, দূর্বা, গর্বা ঘাস আর কাঁঠালপাতাসহ নানা ধরনের গো-খাদ্য বিক্রি হয়। এক আঁটি কাঁঠালপাতা ২০ থেকে ৩০ টাকা, দূর্বা ঘাস ৭০ থেকে ৮০ টাকা, গর্বা ঘাস ৮০ থেকে ১২০ টাকা, আর নেপিয়ার ঘাস ধরনভেদে ৩০ থেকে ৮০ টাকা আঁটি।
নতুন মাইজবাড়ী চরের আজিবার হোসেন বলেন, শরৎকালে চরে সাধারণত কাজ থাকে না, তাই এ মৌসুমে ঘাস বিক্রি করে দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে সংসার চলে। মেঘাই বাজারের বিক্রেতা আনিছুর রহমান জানান, ঘাস আর মাছ বিক্রির টাকায় তাঁর সংসার আর ছেলেমেয়ের পড়ালেখা চলে; নৌকাভাড়া বাদ দিয়ে দিনে গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা থাকে।
ক্রেতা আমিনুল ইসলামসহ অনেকে জানান, তাঁদের প্রত্যেকের চার থেকে সাতটি গবাদিপশু আছে, আর বর্ষায় গো-খাদ্যের সংকটে চরের ঘাসই তাঁদের মূল ভরসা। আমিনুলের কথায়, নদীতীরের গো-খাদ্যের জোগান দিতেই এই ঘাসের বাজারগুলো গড়ে উঠেছে, আর এগুলো ঘিরে চরের অনেক পরিবার জীবিকা চালাচ্ছে।
কাজিপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দিদারুল আহসান বলেন, চরের অনেক পরিবার কাঁচা ঘাস ও কাইশা সংগ্রহ করে হাটে বিক্রি করে, এতে তাদের সংসার চলে আর গবাদিপশুর চাহিদাও মেটে। এর বাইরে প্রায় শতাধিক খামারি বাণিজ্যিকভাবে ঘাস চাষ করে নিজের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রিও করছেন। প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন কৃষি সময়ের কাজিপুর প্রতিনিধি টি এম কামাল।
ছবি: David Stanley / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)