দক্ষিণ আফ্রিকা সীমান্তের কাছে ক্ষুরারোগের (এফএমডি) প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ব্যবস্থা জোরদার করেছে নামিবিয়া। নিশ্চিত হওয়া ঘটনা বেড়ে ১৫টি খামারে ১২৭টিতে দাঁড়িয়েছে। প্রেসিডেন্ট নেতুম্বো নান্দি-এনদাইতওয়াহ (Netumbo Nandi-Ndaitwah) ৬ অক্টোবর এ হিসাব দেন। তিন দিন আগে কৃষিমন্ত্রী ইঙ্গে জামওয়ানি ১১টি খামারে ৭৯টি পজিটিভ নমুনার কথা জানিয়েছিলেন।
খারাস অঞ্চলে ২০টি নজরদারি দল ও ১০টি সড়ক তল্লাশিচৌকি কাজ করছে। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত দলগুলো ৬৮টি খামারে ২৯ হাজার ৩১৩টি পশু পরীক্ষা করেছে। সেপ্টেম্বরের শেষে কারাসবার্গ রাজ্য পশুচিকিৎসা জেলার গ্রাসওয়াটার এলাকায় নিয়মিত নজরদারিতে এসএটি১ ধরনের এ প্রাদুর্ভাব প্রথম ধরা পড়ে। এলাকাটি দক্ষিণ আফ্রিকা সীমান্তের খুব কাছে।
মন্ত্রিসভা একটি নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে: কারাসবার্গ জেলায় বাফার জোন, নামিবিয়া-বতসোয়ানা সীমান্ত বেড়ার কিছু অংশ মেরামত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সীমান্তের উচ্চঝুঁকির এলাকায় নতুন পশুচিকিৎসা বেষ্টনী। সরকার আগে জরুরি ব্যবস্থার খরচ প্রায় ১৯ কোটি র্যান্ড ধরেছিল, যার মধ্যে আরিয়ামসভ্লেই থেকে কারাসবার্গ হয়ে আই-আইস পর্যন্ত প্রায় ২৯০ কিলোমিটার নতুন বেড়ার জন্য প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ র্যান্ড। নিয়ন্ত্রণ অঞ্চলের বাইরের প্রান্ত থেকে কেন্দ্রের দিকে যোগ্য পশুকে টিকা দেওয়া হবে, সঙ্গে চলবে নির্দিষ্ট পশু নিধন, জোরালো নজরদারি ও কঠোর চলাচল নিয়ন্ত্রণ। পশুচিকিৎসা অধিদপ্তর ছাড়া নিজে টিকা দিতে বা পশু সরাতে খামারিদের নিষেধ করা হয়েছে।
টিকা ছাড়া ক্ষুরারোগমুক্ত মর্যাদাই আন্তর্জাতিক বাজারে নামিবিয়ার প্রবেশের ভিত্তি, যা আক্রান্ত অঞ্চলের জন্য স্থগিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন আগের রোগমুক্ত অঞ্চল থেকে গরু, ভেড়া ও ছাগলের তাজা মাংস এবং কিছু প্রক্রিয়াজাত পণ্য আমদানি সাময়িক স্থগিত করেছে। তবে ২৩ সেপ্টেম্বরের আগে সনদ পাওয়া তাজা মাংস ৯০ দিনের অন্তর্বর্তী সময়ে প্রবেশ করতে পারবে।
প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেন, খামারি, খামারশ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিক চাপে পড়েছেন। তিনি বলেন, প্রথম কাজ রোগ নিয়ন্ত্রণ, যাতে দ্রুত ও নিরাপদে বাণিজ্য আবার শুরু করা যায়। পশুর মালিক, ব্যবসায়ী, পরিবহনকারী ও নিলামকারীদের চলাচলের নিয়ম মানার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা পশু খুঁজে বের করতে দেশের পশু শনাক্তকরণ ব্যবস্থাই মূল ভরসা।
দক্ষিণ আফ্রিকা নামিবিয়া থেকে বাছুর ও জবাইয়ের ভেড়া আমদানি করে, তাই সীমান্ত দিয়ে পশু চলাচলে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা দেশটির সরবরাহ ও লাল মাংসের বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।
ছবি: Jean Bucher & Hp.Baumeler / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Farmers Weekly South Africa





মন্তব্য
(০)