গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মরু অঞ্চলের ফল রক মেলন বা সাম্মাম চাষ করে ফল বিক্রি শুরু করেছেন উদ্যোক্তা কামরুজ্জামান খান। তরগাঁও ইউনিয়নের উত্তর খামার এলাকায় বর্গা নেওয়া প্রায় সাড়ে ৮ বিঘা জমিতে তিনি এই আবাদ করেছেন; এ মৌসুমেই বাগান থেকে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ফল বিক্রির আশা করছেন।
কৃষি বিভাগের পরামর্শে মালচিং ফিল্ম বিছিয়ে চাষ করা হয়েছে; ফলধারী লতা তোলা হয়েছে মাচায়। জমির জন্য প্রতি বিঘায় বছরে ১৫ হাজার টাকা বর্গা দিতে হচ্ছে। সূর্যনারায়ণপুর গ্রামের এই উদ্যোক্তা এরই মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করেছেন; চলতি মাসে পাইকারদের কাছে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।
কৃষক ও শ্রমিকদের হিসাবে এখন পর্যন্ত বাগানে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। জমির বর্গা, মজুরি, বীজ, সার, সেচ, মালচিং ফিল্ম ও মাচার খরচ যোগ হলে মোট ব্যয় আরও বাড়বে। কামরুজ্জামান বলেন, নতুন ফলে শুরুতে ঝুঁকি থাকলেও ফলন ও দাম তাঁকে আশাবাদী করেছে, তবে উৎপাদন বাড়লে দাম কমে যাওয়ার ঝুঁকিও আছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাম্মাম উৎপাদনে সাধারণত ৭৫ থেকে ৯০ দিন লাগে; নিয়মিত পরিচর্যা ও সঠিক ব্যবস্থাপনায় প্রতি বিঘা থেকে প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও প্রকৃত আয় নির্ভর করবে ফলন, বাজারদর ও খরচের ওপর।
কাপাসিয়ার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাকিল আহম্মেদ জানান, তরগাঁও, টোক, বারিষাব ও সনমানিয়া এলাকায় পুরোনো ব্রহ্মপুত্র ও শীতলক্ষ্যা অববাহিকার দোআঁশ মাটি রক মেলন চাষের উপযোগী। তবে ভালো ফলনের জন্য নিয়মিত পরিচর্যা, সেচ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ ও সময়মতো ফল সংগ্রহ জরুরি।
নতুন এই ফলের চাষ দেখে আশপাশের কৃষকেরাও বাগানে এসে বিনিয়োগ, ফলন পেতে সময়, জমির ধরন ও বাজারদর নিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন।
প্রতিবেদন: গাজীপুর সংবাদদাতা, কৃষি সময়।
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)