মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে গ্রাফটিং বা জোড় কলম প্রযুক্তিতে তৈরি টমেটোর চারা এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে। বনবেগুন বা তিতবেগুনের শক্ত শিকড়ের ওপর টমেটোর চারা জোড়া দেওয়া এসব গাছ রোগবালাই ও ভারী বৃষ্টি সহ্য করতে পারে বলে কৃষকদের মধ্যে চাহিদা বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, প্রতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ গ্রাফটিং টমেটোর চারা তৈরি হয়, যা থেকে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। চলতি মৌসুমে কমলগঞ্জে প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর আবাদ হয়েছে, যুক্ত আছেন প্রায় ৪৮০ জন কৃষক।
পদ্ধতিটি এরকম: প্রথমে আলাদা বীজতলায় তিতবেগুন ও টমেটোর চারা তোলা হয়। তিতবেগুনের চারা তৈরি হতে লাগে প্রায় ৩৫ দিন, টমেটোর প্রায় ২৫ দিন। এরপর সুস্থ চারা বেছে তিতবেগুনের শিকড়ের অংশের সঙ্গে টমেটোর ওপরের অংশ জোড়া দিয়ে সংযোগস্থল বিশেষ পলিথিনে বেঁধে রাখা হয়। তিন থেকে ছয় দিনে দুটি অংশ জুড়ে যায়, তারপর আরও ১০ থেকে ১২ দিন পরিচর্যা ঘরে রেখে চারা বিক্রির উপযোগী করা হয়।
আদমপুর, জালালপুর, বনগাঁও, কান্দিগাঁও, মধ্যগাঁও ও নাজাতকোনাসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে এসব নার্সারি। প্রতিটি চারা বিক্রি হয় ১২ থেকে ১৫ টাকায়, আর একজন দক্ষ শ্রমিক দিনে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০টি চারা জোড়া দিতে পারেন, ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থানও তৈরি হয়েছে।
নার্সারি উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্রাফটিং করা গাছ সাধারণ চারার চেয়ে শক্ত, সহজে ঢলে পড়ে না, রোগও কম হয়। স্থানীয় কৃষক এম এ করিমের দাবি, সাধারণ টমেটোর একটি গাছে যেখানে ৫ থেকে ১০ কেজি ফলন মেলে, গ্রাফটিং করা গাছে তা ২০ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। কমলগঞ্জের চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় চারা যাচ্ছে, অনেকে মৌসুমের আগেই অর্ডার দেন।
কৃষি কর্মকর্তা জানান, দেশের নানা এলাকার কৃষকেরা গ্রাফটিং চারার জন্য যোগাযোগ করছেন এবং কৃষি বিভাগ তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।
প্রতিবেদনটি এগ্রিকেয়ার২৪-এর ডেস্ক প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Indrakriya / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)