Skip to content
দা এগ্রো নিউজদা এগ্রো নিউজকৃষি ও কৃষকের সংবাদ
সাবস্ক্রাইব

উপকূল জুড়ে ইরাবতি

মেঘনা উপকূলে নৌকায় চড়ে পাখি জরিপের কাজ চলে প্রতি শীতেই। আর এ কাজ যোগ দিচ্ছি প্রায় ২০ বছর ধরে। পাখির পাশাপাশি একটি জলজ প্রাণীর দেখা সব সময়ই পাই—নাম তার ইরাবতি ডলফিন। পুরো পৃথিবী

প্রথম আলো২৬ অক্টোবর ২০২১ · ৩ মিনিটের পড়া

মেঘনা উপকূলে নৌকায় চড়ে পাখি জরিপের কাজ চলে প্রতি শীতেই। আর এ কাজ যোগ দিচ্ছি প্রায় ২০ বছর ধরে। পাখির পাশাপাশি একটি জলজ প্রাণীর দেখা সব সময়ই পাই—নাম তার ইরাবতি ডলফিন। পুরো পৃথিবীর মধ্যে আমাদের দেশের উপকূলেই সবচেয়ে বেশি ডলফিনটির বসবাস। এ দেশের মিঠা পানির নদীর সবার চেনা ডিলফিনটির নাম শুশুক। নদীর ধারে গেলেই প্রাণীটিকে হুস করে লাফিয়ে উঠতে দেখা যায়। একসময় সারা দেশের প্রায় সব মিঠা পানির নদীতে শুশুক ছিল। এখন তা একেবারেই কমে গেছে। তবে উপকূলজুড়ে ইরাবতি ডলফিন বেশ ভাল সংখ্যায় টিকে আছে।

উপকূলীয় নদীগুলোতে ইরাবতি ডলফিনের বেশি বিচরণ। শীতে এই ডলফিনগুলো একেবারেই মিঠা পানির নদীর সংযোগ নদীগুলোতে চলে আসে। প্রতিবছরই ভৈরব–রুপসা আতাই নদীতে এর দেখা পাই। ভোলার চর মমতাজ থেকে সোনার চর যাওয়ার পথে প্রতিবছরই একটি বড় দলের দেখা মেলে। সোনাদিয়া যাওয়ার পথে বাঁকখালী নদীতেও ইরাবতি ডলফিনের ভালো বিচরণ আছে। আর সুন্দরবন হলো ইরাবতি ডলফিনের বড় অভয়ারণ্য। প্রায় সাড়ে ৪০০ ইরাবতির বসবাস সুন্দবনের উপকূল ও নদীতে। অন্যদিকে শুশুক দেখা যায় ২২৫টি।বিজ্ঞাপনবিজ্ঞাপন

মিয়ানমারের উপকূলে ইরাবতি নামের একটি নদী আছে। এই নদীতে ইরাবতি ডলফিনের সহায়তায় জেলেরা মাছ ধরেন। জেলেরা নদীর এক পাশে জাল ফেলে ঘণ্টা বাজাতে থাকেন। ডলফিন এই শব্দ শুনে মাছের দলকে তাড়া করে। পুরো মাছের ঝাঁক জালের কাছাকাছি গিয়ে ছোটাছুটি করতে থাকে। আর কিছু মাছ আবার জালের বাধা পেয়ে পেছন দিকে ফিরে আসে। এসব মাছ শিকার করতে ইরাবতি ডলফিনের বেশ সুবিধে হয়। এভাবেই ইরাবতির জেলে ও ডলফিনরা যুগ যুগ সহ–অবস্থান করে লাভবান হচ্ছে।কম্বোডিয়ার মেকং নদীতেও ইরাবতির একটি বড় দল আছে। ইরাবতিকে একেবারে কাছ থেকে দেখতে হলে এই নদীতে আসতে হবে। ২০১৬ সালের নভেম্বর পুরো একটি দিন এই ডলফিনের সঙ্গে কাটিয়েছিলাম। প্রায় ৩০টি ডলফিনের দেখা পেয়েছিলাম। নৌকার খুব কাছাকাছি থেকে ডলফিনগুলো অভিনব কায়দায় শিকার ধরে।

পৃথিবীতে সাত হাজার বিপন্ন ইরাবতি ডলফিনের মধ্যে পাঁচ হাজারই বাংলাদেশের সীমানায় দেখা যায়। গত দশ বছরে ডলফিন গবেষণায় সারা দেশের নদীগুলোতে ঘুরতে হয়েছে। কোনো নদীতে কী পরিমাণ ডলফিন আছে, তা আমরা এখন ধারণা করতে পারি। পুরো পদ্মা-যমুনাজুড়ে শুধু শুশুকই দেখা যায়। অন্তত অর্ধশত গুরত্বপূর্ণ অঞ্চল আছে শুশুকের জন্য। সারা দেশের নদীগুলোতে প্রায় দেড় হাজার শুশুকের দেখা মেলে, যা পুরো পৃথিবীর এক–তৃতীয়াংশ।বিজ্ঞাপন

ডলফিন হলো নদীর স্বাস্থ্যের ইনডিকেটর। যে নদীতে ডলফিন বেশি থাকে সেখানে মাছও বেশি। এ দেশের প্রায় সব নদীই ডলফিনের জন্য অরক্ষিত। গত চার বছরে প্রায় এক শ ডলফিনের মৃত্যু হয়েছে। বেশির ভাগই কারেন্ট জালে আটকা পড়ে ডলফিন মারা যায়। জলজ প্রাণী হলেও এদের নিশ্বাস নেওয়ার জন্য প্রতি তিন–পাঁচ মিনিটের মধ্যে পানির ওপর ভেসে উঠতে হয়। জালে আটকা পড়লে এরা দ্রুতই মারা পড়ে। এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে প্রায় ৭৮ ভাগ ডলফিন মারা পড়ে কারেন্ট জালে আটকা পড়ে।

ডলফিন সংরক্ষণে এখন সরকার উদ্যোগী হয়েছে। পদ্মা-যমুনায় তিনটি ডলফিন অভয়ারণ্য ঘোষণা হয়েছে। সুন্দরবন ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অভয়ারণ্য হয়েছে ছয়টি। আর মেঘনা উপকূলে সম্প্রতি নিঝুম দ্বীপ মেরিন রিজার্ভ ঘোষণা হয়েছে ইরাবতি ডলফিনের সবচেয়ে বড় বিচরণক্ষেত্র।

মিঠা পানির ডলফিন সংরক্ষণে সারা পৃথিবীতে ২৪ অক্টোবর ডলফিন দিবস পালন করা হয়। মূলত সাধারণ মানুষকে ডলফিন সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করাই এ দিবসটি লক্ষ্য। বাংলাদেশেও দিবসটি ২০১৮ সাল থেকে পালিত হচ্ছে। আমাদের দেশে সাত প্রজাতির ডলফিনের মধ্যে শুশুকই একমাত্র প্রকৃত মিঠা পানির ডলফিন। এই প্রাণীটিই হতে পারে আমাদের জাতীয় জলজ প্রাণী। আর উপকূলের নদীগুলোর প্রধান প্রাণী হলো ইরাবতি। নদীর প্রাণ ডলফিন ভালো থাকুক এই কামনা করি।

ট্যাগ#ইরাবতি#উপকূল
প্রথম আলোদা এগ্রো নিউজ

সম্পর্কিত খবর

মন্তব্য

()