পটুয়াখালীর কুয়াকাটার নির্জন চর বিজয়ে দেখা মিলেছে নীলচে-সবুজ রঙের পাখি ভেরডিটার ফ্লাইক্যাচারের। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা বলছেন, পাখিটির উপস্থিতি দ্বীপটির জীববৈচিত্র্যের নতুন দিক সামনে আনল এবং পরিযায়ী পাখির বিচরণস্থল হিসেবে চর বিজয়ের গুরুত্ব বাড়ছে।
স্থানীয় জেলে মনির জানান, চর বিজয়ের বালুর ওপর বৃষ্টিতে পুরো ভিজে যাওয়া পাখিটিকে তিনি দেখতে পান; কাছে গেলেও সেটি উড়তে পারেনি। পরে তিনি পাখিটিকে গঙ্গামতির বনে নিয়ে রোদে শুকিয়ে সুস্থ করে ছেড়ে দেন। এত সুন্দর নীল পাখি আগে কখনো দেখেননি বলে জানান তিনি।
ভেরডিটার ফ্লাইক্যাচার সাধারণত ১৫ থেকে ১৭ সেন্টিমিটার লম্বা হয়, খায় ছোট পোকামাকড়। বন বিভাগের ‘রেড লিস্ট অব বাংলাদেশ: বার্ডস’ অনুযায়ী এটি বাংলাদেশে সাধারণ ও বিস্তৃত শীতকালীন পরিযায়ী পাখি, একা বা ছোট দলে খোলা বন, বনপ্রান্ত, ঝোপঝাড়, বাগান ও গ্রামীণ গাছপালায় থাকে; বিশ্বজুড়ে প্রজাতিটি ‘ন্যূনতম উদ্বেগ’ শ্রেণির। পাখি পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, দেশে শীতের অতিথিরা শরতের শেষ থেকেই আসতে শুরু করে, সেপ্টেম্বরেও এ প্রজাতির উপস্থিতির রেকর্ড আছে।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, প্রায় ২৩০ একরের চর বিজয়ে ঝাউ, হেঁতাল, গেওয়া, গোলপাতাসহ নানা গাছ লাগানো হয়েছে, বনায়নও চলছে। শীতে সাইবেরিয়া থেকে আসা অতিথি পাখির পাশাপাশি গাংচিল, বদর কবুতর, বক, গোবক, চ্যাঁকাসহ ৮ থেকে ১০ প্রজাতির পাখি আর লাল কাঁকড়ার বিচরণ আছে। চারপাশে পানির গভীরতা কম হওয়ায় জায়গাটি সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও পোনা বেড়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হয়ে উঠছে।
তবে বন বিভাগে লোকবল সংকট আছে, আর নৌযান না থাকায় চর বিজয়ে নিয়মিত নজরদারি সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান মনিরুজ্জামান। উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক কে এম বাচ্চু বলেন, পাখির নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতে শিকার, ফাঁদ ও জাল পাতা বন্ধ করতে হবে, পর্যটকদেরও সচেতন হতে হবে।
প্রতিবেদনটি বাংলাভিশনের কুয়াকাটা প্রতিনিধির।
ছবি: Nrik kiran / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বাংলাভিশন





মন্তব্য
(০)