জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সামলাতে গিয়ে বিশ্বের ২৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ঋণের ভারে দেউলিয়া হওয়ার দ্বারপ্রান্তে বলে মন্তব্য করেছেন মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ। সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনের ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনে তিনি এ কথা বলেন।
নাশিদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হয়েও মালদ্বীপকে প্রতিবছর জাতীয় আয়ের প্রায় ৩০ শতাংশ বাঁধ নির্মাণ, উপকূলীয় ভাঙন রোধ ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মতো অভিযোজনে খরচ করতে হচ্ছে। এতে ঋণ বাড়ছে; বাজেটের প্রায় ২৫ শতাংশ যাচ্ছে ঋণ পরিশোধে, কমছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে ব্যয়ের সুযোগ।
তাঁর কথায়, সমস্যা শুধু সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নয়। সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ায় প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হচ্ছে, উপকূল ভাঙছে, দ্বীপ বিলীনের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রবাল নষ্ট হওয়ায় সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জেলেদের জীবিকায়।
কংক্রিটের বদলে প্রকৃতিভিত্তিক অভিযোজনের পক্ষে যুক্তি দিয়ে নাশিদ বলেন, প্রতি মিটার প্রবাল প্রাচীর পুনরুজ্জীবনে খরচ প্রায় ২০ ডলার, ম্যানগ্রোভ রোপণে ৫ ডলার; অথচ কৃত্রিম বাঁধে খরচ হাজার হাজার ডলার। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের সাহায্যে দ্রুত প্রবাল পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো দান চায় না, পৃথিবীকে যে পরিবেশগত সেবা দিচ্ছে তার ন্যায্য মূল্য চায় বলে মন্তব্য করেন নাশিদ। নেপালের ভয়াবহ বন্যা বা মালদ্বীপের সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধির জন্য সেখানকার মানুষ দায়ী নয়, তাই এর খেসারত কাউকে না কাউকে দিতে হবে।
সমুদ্রপৃষ্ঠ বাড়লে রাষ্ট্রের সমুদ্রসীমা ও অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়েও প্রশ্ন উঠবে বলে সতর্ক করেন তিনি। মালদ্বীপের প্রায় ২০০ নটিক্যাল মাইল অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সম্পদ ব্যবহারের অধিকার আছে, তটরেখা তলিয়ে গেলে যা হুমকিতে পড়বে। এ কারণে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন (ইউএনক্লস) নতুন করে বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
ছবি: Camadrilena / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0) (২০১০ সালে লন্ডনে মোহাম্মদ নাশিদ)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)