সোমালিয়ায় ২০২৬ সালের শেষ তিন মাসেও লাখ লাখ মানুষ তীব্র ক্ষুধায় থাকবে, আর সম্ভাব্য এল নিনোজনিত ভারী বন্যায় শিশুদের তীব্র অপুষ্টি আরও বাড়বে বলে সতর্ক করেছে সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার ও জাতিসংঘ। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এই যৌথ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।
সমন্বিত খাদ্য নিরাপত্তা পর্যায় শ্রেণিবিন্যাস বা আইপিসির সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ৫৪ লাখ মানুষ সংকট বা তার চেয়েও খারাপ মাত্রার ক্ষুধায় পড়বে; এর মধ্যে ১৫ লাখ থাকবে জরুরি মাত্রায়। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৯ লাখ ২০ হাজার শিশুর তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসা লাগবে, যাদের ৪ লাখ ৩৩ হাজার মারাত্মক তীব্র অপুষ্টিতে ভুগবে।
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের দেয়র বর্ষা মৌসুমেই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। এল নিনোর ভারী বৃষ্টিতে নদী-তীরবর্তী কৃষক ও কৃষি-পশুপালক জনগোষ্ঠীর এলাকা ডুবে ফসল ও গবাদিপশু নষ্ট হবে, বাজার ও আয়ের পথ বন্ধ হবে এবং মানুষ চাষ ও চারণের জমি ছেড়ে সরে যেতে বাধ্য হবে। সোমালিয়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা সোডমার (SODMA) হিসাবে ২৫ থেকে ৩৫ লাখ মানুষ বন্যার মুখে পড়তে পারে, বাস্তুচ্যুত হতে পারে প্রায় ১০ লাখ।
পরপর কয়েকটি খারাপ মৌসুমে—২০২৬ সালের গড়ের চেয়ে কম গু বৃষ্টিসহ—কৃষক ও পশুপালক পরিবারগুলো আগেই দুর্বল হয়ে পড়েছে। দেশের অপুষ্টির বোঝার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই গ্রামাঞ্চলে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এপ্রিলে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে থাকা বে অঞ্চলের বুরহাকাবা জেলায় গু বৃষ্টি ও মানবিক সহায়তা বাড়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, তবে বাইদোয়ার বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি রয়েছে; অক্টোবরে সেখানে নতুন মূল্যায়ন হবে।
সোমালিয়ায় এফএওর প্রতিনিধি এতিয়েন পিটারশমিট (Etienne Peterschmitt) বলেন, "যে পরিবারগুলো এখনই ক্ষুধায় আছে, বন্যায় ফসল বা গবাদিপশু হারানোর সামর্থ্য তাদের নেই।" আগাম সতর্কবার্তাকে কাজে রূপ দিতে এবং গ্রামের মানুষের জীবিকা রক্ষায় জরুরি অর্থায়নের আহ্বান জানান তিনি।
সরকার ও জাতিসংঘ খাদ্য ও নগদ সহায়তা এবং অপুষ্টির চিকিৎসা নিরবচ্ছিন্ন রাখা, অক্টোবরে রাস্তা বন্ধ হওয়ার আগেই বন্যাপ্রবণ গ্রামাঞ্চলে খাদ্য, জরুরি জীবিকা ও পুষ্টি সামগ্রী মজুত করা এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও পানি সেবা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের অর্থায়নের সিদ্ধান্তই ঠিক করবে বন্যার সময় সহায়তা পৌঁছাবে কি না।
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)