১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কফি দিবস। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর ৮০/২৪৮ নম্বর প্রস্তাবে দিনটিকে আন্তর্জাতিক কফি দিবস ঘোষণা করেছে; আন্তর্জাতিক কফি সংস্থার সদস্যরা এর আগেই দিনটি পালনে একমত হয়েছিল। দিবসটি উপলক্ষে প্রথম আলো লিখেছে, এক কাপ কফি ক্রেতার হাতে পৌঁছানোর পেছনে কত মানুষের শ্রম জড়িয়ে থাকে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় আড়াই কোটি কফি উৎপাদনকারী পরিবার মিলে বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ কফি উৎপাদন করে, যাদের বড় অংশ উন্নয়নশীল দেশের ছোট কৃষক। তাই কফি শুধু জনপ্রিয় পানীয় নয়, লাখো মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িত এক বৈশ্বিক কৃষিপণ্য। প্রধান উৎপাদক দেশ ব্রাজিল, ভিয়েতনাম ও কলম্বিয়া; বড় আমদানি ও ভোক্তা বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র।
কফিগাছের ফল দেখতে ছোট চেরির মতো, তাই একে বলে ‘কফি চেরি’। পাকা ফল তুলে বাইরের খোসা ও শাঁস সরিয়ে বের করা হয় বীজ, সাধারণত একটি চেরিতে থাকে দুটি। বীজ শুকিয়ে ওপরের আবরণ সরানো হয়, তারপর আকার, ঘনত্ব ও মান অনুযায়ী বাছাই করা হয়; পোকা বা রোগে নষ্ট বীজ এ ধাপে বাদ পড়ে। এই সবুজাভ বীজকেই বলে ‘গ্রিন কফি’।
উৎপাদক দেশগুলো সাধারণত রোস্ট করা কফি নয়, এই কাঁচা গ্রিন কফিই রপ্তানি করে। আমদানিকারক দেশে গিয়ে তা রোস্ট, প্যাকেট ও বাজারজাত হয়। রোস্টিংয়ের সময় নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বীজ ভাজলে রং বদলায় এবং কফির পরিচিত ঘ্রাণ ও স্বাদের বড় অংশ তৈরি হয়; কতটা রোস্ট করা হলো, তাতে স্বাদও বদলায়।
এই পুরো যাত্রায় যুক্ত থাকেন কৃষক ও খামারশ্রমিক, প্রক্রিয়াজাতকারী, ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারক, আমদানিকারক, পরিবহনকর্মী, রোস্টার ও বিক্রেতা। আন্তর্জাতিক কফি সংস্থা (আইসিও) এই ব্যবস্থাকে বলে বৈশ্বিক ভ্যালু চেইন, যার প্রধান ধাপ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাণিজ্য, রোস্টিং ও বাজারজাতকরণ।
ছবি: Rebecca Stanek / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)