রুয়ান্ডার দক্ষিণের হুয়ে (Huye) অঞ্চলে প্রশিক্ষিত চাষিরা কফির ফল তোলেন কেবল যখন তা লাল হয়ে পুরো পাকে। এরপর লম্বা টেবিলে বসে কর্মীরা সবচেয়ে ভালো ফলগুলো বেছে নেন, তারপর তা যায় ধোয়ার কেন্দ্রে। ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কফি দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এক প্রতিবেদনে এই চিত্র তুলে ধরেছে।
কিয়ারুম্বা (Kyarumba) কফি ধোয়ার কেন্দ্রে ফলগুলো প্রথমে পানির ট্যাংকে ফেলা হয়। কেন্দ্রের কৃষিবিদ ও ব্যবস্থাপক আফ্রোদিস তোয়াগিরায়েজু (Aphrodis Twagirayezu) বলেন, ভালো মানের কফির ঘনত্ব বেশি, তাই তা ডুবে যায়; নিম্নমানেরগুলো ভেসে ওঠে। নষ্ট, কাঁচা বা শুকিয়ে যাওয়া ফল তখনই সরিয়ে ফেলা হয়, তারপর খোসা ছাড়ানো, গাঁজন, ধোয়া ও শুকানো।
এফএওর ভাষায়, এমন ধোয়ার কেন্দ্রের বিস্তার এবং চাষি, বাছাইকারী ও কেন্দ্রের কর্মীদের প্রশিক্ষণ রুয়ান্ডার কফিকে বিশেষ মানের (স্পেশালটি) কফিতে পরিণত করেছে, যা বিদেশের বিশেষ বাজারে বেশি দামে বিক্রি হয়। রুয়ান্ডা এফএওর হ্যান্ড-ইন-হ্যান্ড উদ্যোগে কফিকেই জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিয়েছে; লক্ষ্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, তরুণদের যুক্ত করা এবং কফি উৎপাদনে কৃষিপ্রযুক্তি আনা।
কেনিয়ার ৪৭টি কাউন্টির ৩৩টিতেই কফি চাষ হয়, দেশটির আরাবিকা কফি সুপরিচিত। সেখানে বারিঙ্গো (Baringo) কাউন্টির একটি সমবায় উৎপাদন কমে যাওয়া ও সদস্য দ্রুত কমতে থাকার পর নতুন নেতৃত্ব এনে পরিচালনা ও ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় সংস্কার করে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এফএওর ফরেস্ট অ্যান্ড ফার্ম ফ্যাসিলিটি তাদের ক্ষুদ্র অনুদান কর্মসূচি থেকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার দিয়ে এই সংস্কারে সহায়তা করেছে।
তিন বছরেরও কম সময়ে সমবায়ের সদস্য ৭৫৬ থেকে প্রায় ১,২০০ জনে পৌঁছেছে, আর সদস্যদের মধ্যে নারী ও তরুণের অংশ প্রায় ১০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪০ শতাংশ হয়েছে। টেঙ্গেস ফার্মার্স কো-অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান জ্যাকসন লেঙ্গে (Jackson Lenge) জানান, পরিকল্পনা থেকে শুরু করে প্রতিটি কাজে সদস্যরা যুক্ত থাকেন; জমি তৈরি, ফসল ব্যবস্থাপনা, সার প্রয়োগ ও ছাঁটাই নিয়ে প্রশিক্ষণও হয়েছে।
দুই দেশেই ক্ষুদ্র কফি চাষিরা অর্থায়ন, বাজার, উন্নত প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সিদ্ধান্তে মত দেওয়ার জন্য সমবায়ের ওপর নির্ভর করেন। এফএও জানায়, বিশ্বের কফি উৎপাদনের ১৭ শতাংশ এবং রপ্তানির ১২ শতাংশ আফ্রিকার; এই ফসল মহাদেশজুড়ে গ্রামীণ কর্মসংস্থান, জীবিকা ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের বড় ভরসা।
ছবি: এফএও / জঁ বাতিস্ত এনকুরুনজিজা।
সূত্র: এফএও নিউজরুম



মন্তব্য
(০)