নিউজিল্যান্ডে আগামী বছর কার্যকর হতে যাওয়া ভেটেরিনারি কাউন্সিলের নতুন নির্দেশনার পর দুগ্ধ খামারিদের পক্ষে "ঢালাও" ড্রাই কাউ থেরাপির যুক্তি দেখানো কঠিন হয়ে পড়বে—অর্থাৎ সংক্রমণ আছে কি নেই না দেখে দুধ বন্ধের সময় পালের প্রতিটি গাভিকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার চর্চা। নতুন নির্দেশনায় জোর দেওয়া হয়েছে পৃথক গাভির পর্যায়ে যুক্তি দেখানোর ওপর, যাতে প্রমাণ থাকলে তবেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়।
বাছাই করে ড্রাই কাউ থেরাপি নতুন কিছু নয় বলে জানান এমএসডি অ্যানিমেল হেলথের ভেটেরিনারি কারিগরি উপদেষ্টা ম্যাট বাকলি (Matt Buckley); বদলে যাচ্ছে এর পেছনের কর্তৃত্ব আর তা বাস্তবে করে দেখানোর যন্ত্রপাতি। তিনি বলেন, "সীমা আর নির্দেশিকা অনেক দিন ধরেই ছিল। পার্থক্য হলো, এখন পশুচিকিৎসকের পিঠে অনেক শক্ত সমর্থন—তিনি বলতে পারবেন, 'দেখান তো, এই গাভির অ্যান্টিবায়োটিক ড্রাই কাউ থেরাপি লাগে কীসের ভিত্তিতে।'"
ডেইরিএনজেডের (DairyNZ) বিশ্লেষণ ঢালাও পদ্ধতির চারপাশে সরু একটি গণ্ডি টেনে দিয়েছে। সংস্থাটি দেখেছে, উপকার মেলে কেবল সেই পালে যার বাল্ক মিল্ক সোমাটিক সেল কাউন্ট প্রতি মিলিলিটারে ২ লাখ ৫০ হাজার কোষের বেশি এবং মৌসুমের শেষ তিন মাসে তা আরও ৫০ হাজারের বেশি বাড়ে—নিউজিল্যান্ডের ৫ শতাংশেরও কম পাল এই শর্ত পূরণ করে। বাকিদের জন্য পরামর্শ হলো, যোগ্য গাভিগুলোকে বাছাই করে অ্যান্টিবায়োটিক আর শুকনো সময়ে নতুন সংক্রমণ ঠেকাতে সব গাভিকে ইন্টারনাল টিট সিল্যান্ট।
যেসব গাভির দরকার তাদের অ্যান্টিবায়োটিক থেকে বঞ্চিত করা এর উদ্দেশ্য নয়; উদ্দেশ্য প্রমাণহীন ব্যবহার বন্ধ করা, যা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের বড় সমস্যাটিকেও খাওয়ায়। বাকলি বলেন, "সত্যিকারের দরকারের সময় অ্যান্টিবায়োটিক যেন কাজ করে, সেটাই চাই। যে গাভির চিকিৎসা দরকার তাকে চিকিৎসা না দেওয়ার কথা এটি নয়—সঠিক গাভিকে, সঠিক সময়ে, সঠিক চিকিৎসার কথা।" ডেইরিএনজেড বলছে, আন্তর্জাতিক হিসাবে নিউজিল্যান্ডের খামারিরা এমনিতেই সবচেয়ে কম অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারকারীদের একজন।
তবে বাছাই করা চিকিৎসার জন্য খামারি ও পশুচিকিৎসককে প্রতিটি গাভির বিষয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত নিতে হয়—ক্লিনিক্যাল ম্যাস্টাইটিসের রেকর্ড আর পৃথক গাভির সোমাটিক সেল কাউন্ট দেখে। এত দিন সেই তথ্য আসত মৌসুমে কয়েকবার করা হার্ড টেস্ট থেকে। এখন গাভির শরীর থেকে দুধ বেরিয়ে যাওয়ার সময়ই তা মাপার ইনলাইন পর্যবেক্ষণ থেকেও তথ্যটি মিলছে।
২০২৪ সালে জার্নাল অব ডেইরি সায়েন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণায় নিউজিল্যান্ডের প্রধানত ঘাসনির্ভর চারটি পালের ১,৫৪৪টি গাভি নিয়ে দেখা হয়, সেন্সহাব ডেইরি (SenseHub) ব্যবস্থার ইনলাইন সোমাটিক সেল কাউন্ট দুধ বন্ধের সময় গাভিগুলোকে আলাদা চিকিৎসার ভাগে ফেলতে পারে কি না। দুগ্ধকালের শেষ ১২ সপ্তাহে নেওয়া পাঠ প্রচলিত হার্ড-টেস্টের মতোই ভালোভাবে বড় ধরনের ইন্ট্রাম্যামারি সংক্রমণের গাভি চিহ্নিত করেছে।
মৌসুমে দু-একবার নয়, সারাক্ষণ প্রতিটি গাভির কোষ সংখ্যা হাতে থাকলে খামারি আগেভাগেই বাড়তি হিসাব দেখতে পান এবং সম্ভাব্য ম্যাস্টাইটিস আগেই খতিয়ে দেখতে পারেন। বাকলির ভাষায়, "আলাদা গাভি সম্পর্কে বেশি তথ্য থাকা আর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারাই আসল কথা। দুধ বন্ধের সময় এলে আপনার হাতে আগে থেকেই ইতিহাসটা তৈরি থাকে, শূন্য থেকে শুরু করতে হয় না।" কোন গাভির দুধ বন্ধের সময় হয়েছে, তা বুঝতে দুধের পরিমাণও কাজে লাগে; পৃথক গাভির অন্যান্য তথ্য গোটা পর্বটি সামলাতে সাহায্য করে।
ছবি: Halter / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Farmers Weekly NZ





মন্তব্য
(০)