যে রোগ দেশে ঢুকতে দিতে চায় না, তার জন্য জাতীয় মহড়া করেছে ভারত। রোগটি গবাদিপশুর ক্ষুরারোগের বিদেশি ধরন এসএটি১ (SAT1)। দেশটিতে এখন ব্যবহৃত টিকা এই ধরনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় না। তাই দুই দিনের মহড়া ‘বজ্র-স্যাট’-এ জোর ছিল দ্রুত শনাক্ত ও ঠেকানোর ওপর।
প্রাণিসম্পদ ও দুগ্ধ বিভাগ আইসিএআরের বেঙ্গালুরুর পশু মহামারিবিদ্যা ও রোগতথ্য ইনস্টিটিউটের সঙ্গে এটি আয়োজন করে। স্লোগান ছিল: আগে শনাক্ত, দ্রুত নিশ্চিত, একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণ। ২৫টি রাজ্য, তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ও জাতীয় সংস্থা থেকে এসেছিলেন ৮৩ জন: পশুচিকিৎসা সেবা, রোগ নির্ণয় গবেষণাগার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, টিকা প্রস্তুতকারক ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরা। সাজানো প্রাদুর্ভাবের ওপর কাজ করে তাঁরা পরখ করেন প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
সাতটি দল ফিরেছে হাতে-কলমে কিছু কথা নিয়ে। টিকা দেওয়া পালেও প্রাদুর্ভাব চিনতে হবে। দ্রুত খবর দেওয়া ও নমুনা নেওয়া জরুরি, আইসিএআরের ক্ষুরারোগ ইনস্টিটিউটে দ্রুত ধরন নিশ্চিত করতে হবে, তারপর সময়মতো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, অনুসন্ধান ও দ্রুত সাড়াদান দল। ঝুঁকির তথ্য জানানো ও রাজ্যগুলোর সমন্বয়ের কথাও উঠেছে।
সমাপনীতে সভাপতিত্ব করা প্রাণিস্বাস্থ্যের অতিরিক্ত সচিব রমা শঙ্কর সিনহা (Rama Shankar Sinha) জানান, প্যানডেমিক ফান্ডের অর্থে বিভাগ আঞ্চলিক ক্ষুরারোগ গবেষণাগার ও আঞ্চলিক রোগ নির্ণয় গবেষণাগার জোরদার করবে। এতে এসএটি১ আগে ধরা ও দ্রুত নিশ্চিত করা যাবে।
ভারতীয় টিকা প্রস্তুতকারকেরা উপযুক্ত এসএটি১ ভাইরাস সংগ্রহে সরকারের সহায়তা চেয়েছেন, যাতে প্রয়োজনের আগেই দেশে টিকা তৈরি করা যায়। মহড়ায় পশুচিকিৎসা সেবার প্রস্তুতি যাচাই হয়েছে, প্রচলিত কার্যপ্রণালীর ফাঁক খোঁজা হয়েছে, জরুরি অবস্থায় কার কী দায়িত্ব তাও স্পষ্ট করা হয়েছে। ফলাফল যাবে এক প্রতিবেদনে, যা জাতীয় জরুরি পরিকল্পনা জোরদারে কাজে লাগবে।
পরে আলাদা বৈঠকে রাজ্যগুলোয় ক্ষুরারোগমুক্ত অংশ গড়ার অগ্রগতি পর্যালোচনা হয়। লক্ষ্য রোগ প্রতিরোধ, মূল্যবান পশুজাত রক্ষা এবং নিরাপদ পশু বাণিজ্য। আলোচনায় ছিল সিমেন উৎপাদন কেন্দ্র ও সিমেন ব্যাংককে এমন অংশ হিসেবে গড়ে তোলার কথা।
ছবি: Scott Bauer, USDA ARS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: আইসিএআর




মন্তব্য
(০)