অন্ধ্রপ্রদেশে গোদাবরী নদীর ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি ভাটিতে নির্মাণাধীন পোলাভরম সেচ প্রকল্পের বাঁধে তাঁদের ঘরবাড়ি ডুববে কি না, জানেন না ছত্তিশগড়ের কোন্টা এলাকার গ্রামবাসীরা, জানিয়েছে মোঙ্গাবে ইন্ডিয়া। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু আগস্টে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার অঙ্গীকার করেছেন।
২০০৪ সাল থেকে নির্মাণাধীন এবং ২০১৪ সাল থেকে জাতীয় প্রকল্প পোলাভরমের লক্ষ্য ২ লাখ ৯১ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ, ৯৬০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ, ৫৪০ গ্রামের সাড়ে ২৮ লাখ মানুষকে খাবার পানি সরবরাহ এবং গোদাবরীর পানি কৃষ্ণা অববাহিকায় নেওয়া। ২০২৪ সালের আগস্টে প্রথম ধাপের জলাধার স্তর পর্যন্ত কাজের জন্য প্রায় ৩০ হাজার ৪০০ কোটি রুপি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।
ঝুঁকিতে থাকা গ্রামের হিসাব নানা রকম: ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সংসদে আটটি গ্রাম ডোবার কথা বলেছিল, ২০২০ সালে রাজ্যের পানিসম্পদমন্ত্রী প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার মানুষের নয়টি গ্রামের নাম বলেন, আর সেপ্টেম্বরে স্থানীয় সংগঠন বস্তারিয়া রাজ মোর্চা সংখ্যাটি ১৮ বলে দাবি করে। মার্চে বিধানসভায় পেশ করা ভারতের মহাহিসাব নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুরক্ষা না থাকলে পশ্চাৎ-জলে ছত্তিশগড় ও ওড়িশার ১২টি গ্রামের ৩ হাজার ৩৩৭টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, আর শবরী ও সিলেরু নদীর তীরে পরিকল্পিত সুরক্ষা বাঁধের কাজ শুরুই হয়নি; সুপ্রিম কোর্টে পরিবেশ ছাড়পত্রের মামলা ঝুলে থাকায় তা আটকে আছে। অন্ধ্রপ্রদেশ নিরীক্ষককে জানিয়েছে, ৪১.১৫ মিটার পর্যন্ত পানি ধরে রাখার প্রথম ধাপে অন্য রাজ্যে কিছু ডুববে না।
বাঁধ ও নদী বিষয়ক সংগঠন স্যান্ড্রপের হিমাংশু ঠক্কর অভিযোগ করেন, ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোতে প্রয়োজনীয় গণশুনানি হয়নি এবং পশ্চাৎ-জলের প্রভাবও মূল্যায়ন করা হয়নি। ২৮ সেপ্টেম্বর বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের সংখ্যা ১৮ ছাড়াতে পারে। স্থানীয় সংগঠনগুলো জনসমক্ষে জরিপ, কারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তা প্রকাশ, বাস্তুচ্যুতির আগে ক্ষতিপূরণ এবং কোয়া ও দোরলা আদিবাসীদের জন্য স্থানীয় ভাষায় শিক্ষার দাবি জানাচ্ছে।
ছবি: Chaduvari / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Mongabay India





মন্তব্য
(০)