জুনে শুরু হওয়া এল নিনো চূড়ায় পৌঁছানোর কয়েক মাস আগেই রেকর্ড গড়েছে বলে সায়েন্স নিউজের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ফার্মিংপোর্টাল। ২১ সেপ্টেম্বর প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব বিষুবীয় অঞ্চলে, যেখানে এল নিনো তৈরি হয়, সমুদ্রপৃষ্ঠের দৈনিক তাপমাত্রা ১৯৯১-২০২০ সালের গড়ের চেয়ে ৩.০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, যা এ যাবৎ কোনো এল নিনোয় দেখা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডল প্রশাসনের (এনওএএ) জলবায়ুবিজ্ঞানী ন্যাথানিয়েল জনসন একে "অসাধারণ ঘটনা" বলেছেন এবং জানিয়েছেন, এটি সম্ভবত আরও শক্তিশালী হবে। তবে এনওএএ এখনো একে রেকর্ড সবচেয়ে শক্তিশালী ঘোষণা করেনি, কারণ সংস্থাটি তিন মাসের চলমান গড় ও নতুন একটি আপেক্ষিক সূচক দিয়ে শক্তি মাপে; সে হিসাবে এটি এখনো ১৯৯৭-৯৮ সালের এল নিনোকে ছাড়ায়নি। তবে এনওএএর সর্বশেষ মৌসুমি পূর্বাভাস বলছে, সে রেকর্ডও শিগগির ভাঙতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের গবেষকদের হিসাবে সমুদ্র থেকে বেরোনো এ তাপ আগামী কয়েক মাসে বিশ্বের স্থলভাগের তাপমাত্রা প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়াতে পারে এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাপজনিত কারণে অতিরিক্ত সাড়ে চার লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে।
সবচেয়ে অনুমেয় প্রভাব পড়ে গ্রীষ্মমণ্ডলে। জনসন জানান, এ বছর আটলান্টিকে ঘূর্ণিঝড় কম, প্রশান্ত মহাসাগরে বেশি হয়েছে, আর মধ্য আমেরিকায় খরা দেখা দিয়েছে। এল নিনোর সময় সাধারণত দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাংশ ও আমাজনে খরা হয় এবং ভারতীয় বর্ষা দুর্বল হয়ে পড়ে।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাটমসফেরিক রিসার্চের জলবায়ুবিজ্ঞানী ন্যাথান লেনসেন সতর্ক করেন, এল নিনো শক্তিশালী হলেই এর প্রভাব নিয়ে নিশ্চয়তা বাড়ে না, কারণ সমুদ্র উষ্ণ হওয়ায় কিছু পুরোনো ধরন আর আগের মতো খাটে না। এল নিনো সাধারণত এক বছর থাকে, আর বড় এল নিনোর পর লা নিনায় যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। জনসনের মতে, গত শীতের লা নিনা থেকে এক বছরের কম সময়ে খুব শক্তিশালী এল নিনোয় রূপান্তর সম্ভবত এ যাবৎকালের দ্রুততম।
ছবি: NOAA / উইকিমিডিয়া কমন্স (Public domain)
সূত্র: FarmingPortal





মন্তব্য
(০)