দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিতে শুরু করলেও ভারতের অর্ধেকের বেশি এলাকা এখন শুষ্ক বা খরাকবলিত; বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিস্তার ও স্থায়িত্বে এবারের খরা ২০১৫-১৬ সালের খরার চেয়েও খারাপ। খবরটি দিয়েছে ডাউন টু আর্থ।
আইআইটি গান্ধীনগরের ইন্ডিয়া ড্রাউট মনিটরের হিসাবে ১৬ সেপ্টেম্বর দেশের প্রায় ৫২ শতাংশ এলাকা শুষ্ক বা খরায় ছিল, যা এক মাস আগে ছিল ৩৮.৯ শতাংশ; কিছু এলাকা 'চরম' ও 'ব্যতিক্রমী' খরায় পৌঁছেছে। আইআইটি বোম্বের জলবায়ু গবেষণা কেন্দ্রের সহযোগী অধ্যাপক কার্তিকেয়ন লঙ্কা বলেন, এবারের খরা ২০১৫-১৬ সালের চেয়ে খারাপ মনে হচ্ছে; বৃষ্টি হয়েছে থেমে থেমে, তাই বৃষ্টির পরও শুষ্কতা ফিরে এসেছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, এল নিনো পুরোপুরি জেঁকে বসেছে এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকতে পারে।
১ জুন থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতে ৮৩২.৪ মিলিমিটার স্বাভাবিকের বিপরীতে বৃষ্টি হয়েছে ৭০৬.৯ মিলিমিটার—১৫ শতাংশ ঘাটতি, যা আবহাওয়া দপ্তরের হিসাবে এখনো স্বাভাবিকের সীমায়; তবে দেশের ৪১ শতাংশ এলাকায় বৃষ্টি ছিল কম। পশ্চিম ভারতের প্রায় ৭৯ শতাংশ ও দক্ষিণ ভারতের ৬৭ শতাংশ এলাকা শুষ্ক বা খরায়; উপকূলীয় অন্ধ্রে ঘাটতি ৩৭, রায়ালসীমায় ৪৩, কর্ণাটকের অভ্যন্তরে ৩২, কেরালায় ২৮ এবং মারাঠওয়াড়ায় ৩৬ শতাংশ। আইআইটি বোম্বের পূর্বাভাসে অক্টোবরের শুরু পর্যন্ত অন্ধ্র প্রদেশ, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র ও পশ্চিম মধ্য প্রদেশের কিছু অংশে কৃষি খরা চলবে।
আবাদেই চাপের ছাপ স্পষ্ট। ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খরিফ ফসলের আবাদ ১ হাজার ৯৬.৪৯ লাখ হেক্টর, গত বছর একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ১১২.৫৪ লাখ হেক্টর। এর বড় অংশ ধানে—৪২৬.৮১ লাখ হেক্টর, প্রায় ১৭ লাখ হেক্টর কম; সবচেয়ে বেশি কমেছে কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্র প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, তামিলনাড়ু ও মহারাষ্ট্রে।
ফসল এখন বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে; মাটির আর্দ্রতা যেখানে ফুরিয়ে গেছে, সেখানে দেরির বৃষ্টিও জমে থাকা চাপ পুরো পুষিয়ে দিতে পারবে না, ফলে আবাদের পাশাপাশি ফলনও কমতে পারে। ঝুঁকি রবি মৌসুমেও গড়াতে পারে, কারণ শীতের ফসল বর্ষার রেখে যাওয়া আর্দ্রতা ও জলাধারের ওপর নির্ভর করে; ভারতের নিট আবাদি জমির ৫৫-৬০ শতাংশ বৃষ্টিনির্ভর। জুনেই কৃষি মন্ত্রণালয় ও আইসিএআর ৩১৫টি জেলাকে এল নিনোজনিত কৃষি সংকটের ঝুঁকিতে চিহ্নিত করেছিল, যার ১১১টিতে সেচের আওতা ২৫ শতাংশের কম হওয়ায় সেগুলো উচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন শগুন।
ছবি: Suhasajgaonkar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)