ভারতের কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় ১ অক্টোবর গোবর্ধন (GOBARdhan) প্রকল্প, একীভূত গোবর্ধন পোর্টাল ও গোবর্ধন হ্যান্ডবুক চালু করেছে। এতে সংকুচিত বায়োগ্যাস (সিবিজি) উৎপাদক, কৃষক, রাজ্য সরকার, শহরের গ্যাস বিতরণকারী ও ঋণদাতারা এক কাঠামোয় এসেছে। সিবিজি তৈরি হয় ফসলের অবশিষ্টাংশ, গোবর এবং পৌর ও শিল্পের জৈব বর্জ্য থেকে; সরকার চায় এটি গ্যাস আমদানি কমাক। ২০২৪-২৫ সালে ব্যবহৃত প্রায় ৭১,০০০ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় অর্ধেকই আমদানি হয়েছিল, খরচ প্রায় ১,৪৯০ কোটি ডলার।
ডাউন টু আর্থের বিশ্লেষণ বলছে, প্রকল্পটি যতটা না ভর্তুকি কর্মসূচি, তার চেয়ে বেশি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গড়ার চেষ্টা, যা কৃষককে "অন্নদাতা" থেকে "ঊর্জাদাতা" (জ্বালানিদাতা) হতে সাহায্য করবে। পোর্টালে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক; কারখানাগুলোকে স্ক্যাডা পর্যবেক্ষণ, অনলাইন গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফ ও স্বয়ংক্রিয় বন্ধের ব্যবস্থা বসাতে হবে, যাতে মান ও উৎপাদনের তথ্য সরাসরি পোর্টালে যায়।
সহায়তা উৎপাদনের সঙ্গে বাঁধা। দৈনিক প্রতি টন সক্ষমতার জন্য পুঁজি-সহায়তা ১.২৫ কোটি রুপি, সঙ্গে কাঁচামাল সংগ্রহ ও সার-যন্ত্রের জন্য দৈনিক প্রতি টনে আরও সর্বোচ্চ ০.৭৫ কোটি রুপি; প্রকল্পপ্রতি সর্বোচ্চ ৩০ কোটি রুপি। এই সহায়তার শেষ ৫০ শতাংশ পুরোটা মিলবে কেবল কারখানা ৭৫ শতাংশ সক্ষমতায় চললে; ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশে আনুপাতিক হারে, আর ৫০ শতাংশের নিচে কিছুই নয়। সিবিজির নির্ধারিত দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ২,১১০ রুপি, বহাল থাকবে ২০৩৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। ৫০০ কোটি রুপির একটি চ্যালেঞ্জ তহবিল সেরা জেলাগুলোকে পুরস্কার দেবে; মূল্যায়নের মধ্যে আছে কাঁচামালের মানচিত্র তৈরি এবং সিবিজি কারখানার জৈব সারের ব্যবহার।
বিক্রিও এখন বাধ্যতামূলক চুক্তিতে। উৎপাদক, গ্যাস বিতরণকারী ও গেইলের (GAIL) ত্রিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী দ্বিতীয় বছর থেকে বিতরণকারীকে মনোনীত পরিমাণের অন্তত ৯০ শতাংশ নিতে হবে, আর উৎপাদককে চুক্তির অন্তত ৫০ শতাংশ সরবরাহ করতে হবে; দুই পক্ষের জন্যই জরিমানা আছে। বিতরণকারীদের ওপর সিবিজি মেশানোর ৩, ৪ ও ৫ শতাংশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, আর কারখানা পর্যন্ত পাইপলাইনে ৫০ শতাংশ সহায়তা মিলবে।
সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের (সিএসই) পাঞ্জাব, হরিয়ানা, গুজরাট ও উত্তর প্রদেশের গবেষণার আলোকে বিশ্লেষণটি কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফাঁক দেখিয়েছে। ফসলের অবশিষ্টাংশ মৌসুমি, এর সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণ বিচ্ছিন্ন; অথচ দীর্ঘমেয়াদি কাঁচামাল চুক্তি, দাম বা সংরক্ষণের বিস্তারিত কাঠামো নেই, তা রাজ্যের ওপর ছাড়া হয়েছে। কারখানায় তৈরি গাঁজানো জৈব সারের বাজার গড়ার কোনো ব্যবস্থাও নেই, যদিও কৃষকের সচেতনতা কম আর বাজার-সংযোগ দুর্বল। সিএসই ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ১,০০০টি চালু বর্জ্যভিত্তিক কারখানা, ৭৫ শতাংশের বেশি সক্ষমতায়, প্রস্তাব করেছিল।
কৃষকের জন্য প্রকল্পটি খড় ও গোবর বিক্রির একটি পথ এবং জৈব সারের উৎস খুলে দিচ্ছে; তবে সেই আয় আসবে কি না, তা নির্ভর করবে রাজ্যগুলো সত্যিকারের সরবরাহ-ব্যবস্থা গড়ে তোলে কি না এবং গ্যাস ক্রেতারা চুক্তির পরিমাণ নেয় কি না তার ওপর।
ছবি: SuSanA Secretariat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)