পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলায় বন্যপ্রাণীর প্রাচুর্য থাকলেও আজ পর্যন্ত কোনো সামাজিক বনায়ন (সোশ্যাল ফরেস্ট্রি) রেঞ্জ গড়ে ওঠেনি, যদিও পাশের হুগলির আরামবাগে তা আছে। এই সময়ের উলুবেড়িয়া প্রতিনিধি রাকিব ইকবালের প্রতিবেদনে পরিবেশকর্মীরা সতর্ক করেছেন, সংরক্ষিত বন না হলে জেলা থেকে বিলুপ্ত হতে পারে রাজ্যপ্রাণী মেছো বিড়াল (বাঘরোল), বন বিড়াল, গন্ধগোকুল, হিমালয়ান ঝুঁটিবিহীন শজারু ও মনিটর লিজার্ডের মতো প্রাণী।
আরবান রেঞ্জের পাঁচলা, ডোমজুড় ও জগৎবল্লভপুরে এবং উলুবেড়িয়া রেঞ্জের আমতা, বাগনান, শ্যামপুর ও উলুবেড়িয়ায় মেছো বিড়ালসহ নানা বন্যপ্রাণীর দেখা মেলে। প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনা ও মানুষের সঙ্গে সংঘাতে বহু বন্যপ্রাণী মারা যায়; বন দপ্তর ও পরিবেশ সংগঠন কাজ করলেও মৃত্যু কমানো যাচ্ছে না। প্রতিবছর বনসৃজনে লাখো গাছ লাগানো হলেও বন্যপ্রাণীর জন্য কোনো বনাঞ্চল তৈরি হচ্ছে না।
হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের সভাপতি সম্রাট মণ্ডল বলেন, 'হাওড়া জেলার বন্যপ্রাণীদের অস্তিত্ব বাঁচিয়ে রাখতে আমরা সংরক্ষিত বনাঞ্চল করার দাবি জানিয়েছি।' তাঁর প্রস্তাব, জেলার কিছু জায়গা চিহ্নিত করে কমিউনিটি বন এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসনকেন্দ্র করা; জেলায় প্রচুর খাসজমি পড়ে আছে বলে জানান তিনি।
বন বিভাগের এক প্রাক্তন কর্মকর্তার মতে, হাওড়া ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে সামাজিক বন করা কঠিন; একটি বনাঞ্চলের জন্য অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ একর জায়গা লাগে। বিগত সরকারের সময়ে বাগনানের বাঙালপুর ও হাটুরিয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের নদীতীরে মেছো বিড়ালের জন্য অভয়ারণ্য গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা থমকে যায়।
পরিবেশকর্মীরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, ১৯৯২ সালে সামাজিক বনসৃজনে অবদানের জন্য হাওড়া জেলা কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী বৃক্ষমিত্র পুরস্কার পেয়েছিল, ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বন দপ্তর সেখানে বড় ভূমিকা রেখেছিল; এখন কেন তা সম্ভব হচ্ছে না, সে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। মেছো বিড়াল বাংলাদেশের জলাভূমিরও বিপন্ন প্রাণী।
ছবি: Mike R / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)