দক্ষিণ আফ্রিকায় ধীরে ধীরে কমছে এমন পরিবারের সংখ্যা, যারা নিজের আঙিনা বা জমিতে ফসল ফলায় কিংবা পশুপাখি পালে। এতে ক্ষুধার বিরুদ্ধে একটি কম খরচের সুরক্ষা দুর্বল হচ্ছে। জেনারেল হাউসহোল্ড সার্ভে (২০০৮-২০২৪) এবং ২০১১ ও ২০২২ সালের আদমশুমারির তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে ফার্মিং পোর্টালে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে।
আদমশুমারির হিসাবে ২০১১ সালে ১৯.৯ শতাংশ পরিবার (২৮,৭৯,৫৯০টি) কৃষিকাজে যুক্ত ছিল, ২০২২ সালে তা নেমে ১৩.৮ শতাংশ (২৪,৬৩,৪২৯টি)। পরিবার জরিপে এই হার ২০১০-এর দশকের শুরুতে ২০ থেকে ২৩ শতাংশে উঠেছিল, এখন ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি কমেছে কোয়াজুলু-নাটাল (২৮.২ থেকে ১৯.২ শতাংশ), ইস্টার্ন কেপ (৩৫.৪ থেকে ২৬.২), লিম্পোপো (৩৩.০ থেকে ২৮.৭), এমপুমালাঙ্গা (২৪.৫ থেকে ১৮.০) ও ফ্রি স্টেটে (২৪.৪ থেকে ১৬.১)। ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ লিম্পোপোতে, ৩৬.৪ শতাংশ; সর্বনিম্ন ওয়েস্টার্ন কেপে, ৩.১ শতাংশ।
চাষি পরিবারগুলোর প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ চাষ করে নিজেদের খাবারের জন্য, আয়ের জন্য নয়; ২০২২ সালে গরু আছে এমন পরিবারের ৬০ শতাংশের গরু ১০টির কম। লেখকদের মতে, আঙিনার এক টুকরো সবজিবাগান, কয়েকটি মুরগি বা ছোট পশুর পাল খাবারের দামের ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করে; এর হারিয়ে যাওয়া ক্ষতিকর কি না, তা নির্ভর করে চাকরি, সরকারি ভাতা ও বাজার সেই জায়গা নিতে পারছে কি না তার ওপর। ২০২১ সালে গ্রামের ৩৯.৪ শতাংশ পরিবার চাষ করত, শহরে মাত্র ৭.৪ শতাংশ, তাই নগরায়ণও এই পতনের একটি কারণ।
২০২২ সালে চাষি পরিবারের ৫৩.৯ শতাংশের প্রধান ছিলেন নারী, ২০১১ সালে যা ছিল ৪৭.৯ শতাংশ; পুরুষেরা অন্য কাজে যাচ্ছেন, তরুণেরা শহরমুখী, ফলে কৃষকেরা বয়স্ক হয়ে পড়ছেন। লেখকেরা ক্ষুদ্র চাষিকে শুধু বাণিজ্যিক কৃষক বানানোর বদলে পরিবারের বিদ্যমান উৎপাদনকে টিকিয়ে রাখার নীতির আহ্বান জানিয়েছেন।
ছবি: Ryanj93 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: FarmingPortal



মন্তব্য
(০)