পশ্চিমবঙ্গের হুগলির উত্তর সিমলাপাল গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব কৃষক কৃষ্ণচন্দ্র হালদার তিন জমিতে ১,৮৭৫টি পেঁপে গাছ থেকে বছরে ৭৫,০০০ কেজি পেঁপে পান, অর্থাৎ গাছপ্রতি গড়ে প্রায় ৪০ কেজি। এতে তাঁর আয় প্রায় সাড়ে ২২ লাখ রুপি।
স্থানীয় পেঁপেতে রোগ বেশি ও ফলন কম দেখে তিনি ‘রেড লেডি ৭৮৬’ জাতের সঙ্গে সংকরায়ণ শুরু করেন। পুরুষ ও স্ত্রী ফুল আলাদা করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ সময়ের কৃত্রিম পরাগমিলনে সফল হন। তাঁর দাবি, নাম না হওয়া এই পেঁপে রোগপ্রতিরোধী ও বেশি ফলনশীল; এই দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের কথা প্রতিবেদনে নেই।
লম্বাটে ফল ১৫ থেকে ২০ সেন্টিমিটার লম্বা, ওজন ৫০০ থেকে ৭৫০ গ্রাম, শাঁস কমলা রঙের। সাধারণত ৫ কেজি পেঁপে ১৫০ রুপিতে বিক্রি হয়। তাঁর ক্ষেত থেকে প্রতিদিন চন্দননগরে যায় ১০০ কেজি।
এঁটেল মাটিতে ছয় থেকে আট ফুট দূরে চারা বসিয়ে বাঁশের খুঁটিতে অবলম্বন দেন তিনি। প্রতি দুই বছর পর গাছ বদলাতে হয়, এতে বিঘাপ্রতি প্রাথমিক বিনিয়োগ ১ লাখ রুপি। সরিষা ও চিনাবাদামের খৈল, ইউরিয়া ও কীটনাশক ব্যবহার করেন।
১৯৭৬ সালে সেনাবাহিনী ও পুলিশে চাকরির জন্য নির্বাচিত হয়েও তিনি চাষকে পেশা হিসেবে বেছে নেন, ১৯৮৬ সাল থেকে পেঁপে করছেন। বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া এই কৃষক এখন অন্য চাষিদের প্রশিক্ষণ দেন।
ভারতের কৃষি মন্ত্রকের পরিসংখ্যানে পশ্চিমবঙ্গে পেঁপে উৎপাদন প্রায় ৩ লাখ ৩৪ হাজার মেট্রিক টন।
ছবি: Valugi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন




মন্তব্য
(০)