কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার শ্রীমদ্দি গ্রামের চাষি ওয়ালি উল্লাহ বাড়ির পাশে ১৬ শতক জমিতে কাটা পুকুরে মাছ আর পুকুরপাড়ে সবজি চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। তাঁর দেখাদেখি এলাকার অন্য কৃষকেরাও এই সমন্বিত পদ্ধতিতে আগ্রহী হচ্ছেন।
কয়েক বছর আগে পুকুর কাটার পর কৃষি ও মৎস্য বিভাগের পরামর্শে তিনি সমন্বিত চাষ শুরু করেন। পুকুরে কার্প, সরপুঁটি, তেলাপিয়া ও বাটা জাতের প্রায় চার হাজার পোনা ছেড়েছেন, নিয়মিত খাবার দেন এবং এরই মধ্যে কয়েক দফা মাছ বিক্রি করেছেন।
পুকুরপাড়ের খালি জায়গাও কাজে লাগিয়েছেন তিনি। পাড়জুড়ে বেগুন, পুঁইশাক ও মিষ্টিকুমড়াসহ নানা শাকসবজি, তার ফাঁকে পেঁপে, আম ও কলার চারা। পাড়ঘেঁষা প্রায় এক বিঘা জমিতে বাঁশের মাচায় ঝুলছে লাউ, সঙ্গে চিচিঙ্গা ও ঝিঙা, একটু দূরে বেড়ে উঠছে শিমের চারা।
ওয়ালি উল্লাহ জানান, কয়েক বছর ধরে এভাবে চাষ করে পরিবারের আমিষ ও পুষ্টির চাহিদা সহজেই মিটছে, দৈনন্দিন বাজারের খরচও অনেক কমেছে। পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে মাছ বিক্রির টাকা তাঁর বাড়তি আয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, এক খণ্ড জমিতে এমন উদ্যোগ নিরাপদ খাদ্য ও সবজি উৎপাদনে অন্যদের উৎসাহ দেবে। কৃষি বিভাগ তাঁকে কারিগরি সহায়তা এবং হাইব্রিড জাতের সবজি চাষে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমা আক্তার উদ্যোগটির প্রশংসা করে বলেন, ভালো ফলনের জন্য পুকুরের আয়তন মেপে মাছের অনুপাত ঠিক রাখা জরুরি। মৎস্য বিভাগ সঠিক অনুপাতে পোনা মজুদের পরামর্শ, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে।
প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের কুমিল্লা সংবাদদাতার পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে লেখা।
ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)