কর্মব্যস্ত সকালে তাড়াহুড়ো করে খেতে গিয়ে হঠাৎ জামায় পড়ে গেল মুরগির ঝোল! বিশেষ করে পোশাকটি যদি হয় সাদা, ক্রিম বা হালকা রঙের, তাহলে চিন্তার শেষ থাকে না। কারণ মাংসের ঝোলের তেল ও মসলার দাগ সহজে উঠতে চায় না।
অনেক সময় সাধারণ ডিটারজেন্ট দিয়ে ধোয়ার পরও পোশাকে হলদেটে বা লালচে দাগ থেকে যায়। তখন পছন্দের জামাটি আর পরার উপযোগী থাকে না।
তবে এমন পরিস্থিতিতে দুশ্চিন্তা না করে কয়েকটি সহজ উপায় কাজে লাগাতে পারেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তেল-মসলার দাগ তুলতে একটি পেস্টের পদ্ধতি আলোচনায় এসেছে। কীভাবে তৈরি করবেন এই পেস্ট? আর কীভাবেই বা ব্যবহার করবেন? জেনে নিন বিস্তারিত।
তেল-মসলার দাগ তুলতে সরাসরি ওয়াশিং মেশিনে না দেওয়া
জামায় তেল বা মসলার দাগ লাগলে অনেকেই দ্রুত ওয়াশিং মেশিনে পোশাকটি দিয়ে দেন। কিন্তু এতে সব সময় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। বিশেষ করে তেলের দাগ আগে থেকে আলাদাভাবে পরিষ্কার না করলে ধোয়ার পরও পোশাকে দাগ থেকে যেতে পারে।
তাই প্রথমেই দাগের জায়গায় পরিষ্কার করার উপকরণ ব্যবহার করে নিতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, দাগ লাগার পর যত দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন, তা পরিষ্কার করা তত সহজ হতে পারে। দাগের ওপর জোরে ঘষাঘষি না করে ধীরে ধীরে পরিষ্কার করাই ভালো।
যেভাবে তৈরি করবেন দাগ তোলার পেস্ট
তেল-মসলার দাগ পরিষ্কারের জন্য ঘরেই তৈরি করতে পারেন একটি পরিষ্কারক পেস্ট। এ জন্য প্রয়োজন হবে তিনটি উপকরণ। এক ভাগ বেকিং সোডা বা ওয়াশিং সোডা।, সমপরিমাণ হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, কয়েক ফোঁটা বাসন ধোয়ার তরল সাবান ছোট পাত্রে উপকরণগুলো নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। সবকিছু মেশানো হলে ঘন পেস্ট তৈরি হবে। এই পেস্টই ব্যবহার করতে পারেন পোশাকের দাগ পরিষ্কারের কাজে।
পেস্টটি ব্যবহার করার পদ্ধতি
প্রথমে পোশাকের যে অংশে তেল-মসলার দাগ লেগেছে, সেখানে অল্প পরিমাণ পেস্ট লাগিয়ে দিন। এরপর পুরোনো নরম ব্রাশ দিয়ে খুব হালকা হাতে ঘষুন। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে ঠান্ডা পানি দিয়ে জায়গাটি ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর পোশাকের কাপড়ের ধরন ও পরিচর্যার নির্দেশনা অনুযায়ী হাতে অথবা ওয়াশিং মেশিনে ধুয়ে নিতে পারেন।
ব্যবহারের আগে যেসব বিষয় মনে রাখবেন
সব ধরনের কাপড়ে একই পরিষ্কারক ব্যবহার করা নিরাপদ নয়। বিশেষ করে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড রঙিন পোশাকের রং হালকা করে দিতে পারে। তাই পুরো দাগের ওপর পেস্ট লাগানোর আগে জামার ভেতরের কোনো অদৃশ্য অংশে পরীক্ষা করে নিন। সিল্ক, উল, সূক্ষ্ম নকশার পোশাক কিংবা বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হয় এমন কাপড়ে এই পদ্ধতি ব্যবহার না করাই ভালো। এসব পোশাকের ক্ষেত্রে পেশাদার পরিষ্কারক প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিতে পারেন।
এছাড়া হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ব্যবহারের সময় হাতে গ্লাভস পরুন এবং চোখ ও ত্বকের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। কখনোই এটি ব্লিচ, ভিনেগার বা অন্য পরিষ্কারক রাসায়নিকের সঙ্গে মেশাবেন না।
সূত্র: দ্য মিরর, দ্য স্প্রুস


মন্তব্য
(০)