দিনে ঘামঝরা গরম, ভোরে হালকা কুয়াশা আর সন্ধ্যার পর শীতের আমেজ: হেমন্তের এই দ্রুত আবহাওয়াবদলে বাতাসের আর্দ্রতা কমে, ধুলা বাড়ে, আর শরীরে কিছু চেনা অসুখ দেখা দেয়। প্রথম আলোয় লেখা এক নিবন্ধে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহনূর শারমিন এ সময়ের সাধারণ রোগ আর সাবধানতার কথা বলেছেন।
প্রথমেই সর্দি-কাশি ও ফ্লু-জাতীয় ভাইরাস সংক্রমণ। হঠাৎ শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, গলাব্যথা, খুসখুসে কাশি, নাক বন্ধ হতে পারে। তাঁর ভাষায়, এসব জ্বর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চার-পাঁচ দিনে কমে, তবে কাশি, দুর্বলতা ও অরুচি থেকে যেতে পারে অনেক দিন। জ্বর-ব্যথায় প্যারাসিটামল-জাতীয় ওষুধ এবং কাশি বা গলার সংক্রমণে ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শে নিতে হবে; সঙ্গে বিশ্রাম, তরল ও পুষ্টিকর খাবার।
শুষ্ক বাতাস আর ধুলায় এ সময় অ্যালার্জি তুঙ্গে থাকে। যাঁদের ঠান্ডা বা ধুলায় অ্যালার্জি কিংবা হাঁপানি আছে, তাঁদের হাঁচি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, সাইনোসাইটিস ও টনসিলের সমস্যা বাড়তে পারে; ব্রংকাইটিস বা নিউমোনিয়াও হতে পারে। বাইরে মাস্ক পরা আর ঘর ধুলামুক্ত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে জ্বর বা কাশি বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
আর্দ্রতা কমায় ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়, ঠোঁট ফাটে, চুলকানি বা একজিমা বাড়তে পারে। পর্যাপ্ত তরল খাওয়া আর ময়েশ্চারাইজার বা গ্লিসারিন ব্যবহারে এই শুষ্কতা অনেকটা ঠেকানো যায়। ঠান্ডার ভাব শুরু হওয়ায় বাতের ব্যথা ও পেশিতে টান লাগার প্রবণতাও বাড়ে; গরম কাপড়, হাত-পায়ের মোজা ও গরম পানি ব্যবহার এবং প্রয়োজনে আগেভাগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।
ডেঙ্গু নিয়ে তাঁর সতর্কবার্তা স্পষ্ট: এটি এখন সারা বছরের রোগ, হেমন্তেও থামেনি। জ্বর হলে শুরুতেই ডেঙ্গু পরীক্ষা করা ভালো, কারণ অনেক সময় ডেঙ্গু আর অন্য ভাইরাস জ্বর আলাদা করা যায় না; আবার পরীক্ষা নেগেটিভ এলেই পুরো নিরাপদ, এমনও নয়।
তাঁর সারকথা: প্রয়োজনে হালকা গরম পোশাক, গরম পানি, বাইরে মাস্ক, পর্যাপ্ত তরল, উষ্ণ পানীয় বা স্যুপ, ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার, ত্বকের যত্ন, পরিচ্ছন্ন ঘর, আর দরকারে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ। এটুকু মেনে চললে হেমন্তের রোগবালাই অনেকটা দূরে রাখা যায়।
ছবি: ঢাকা মেডিকেল কলেজ, A.M.R. / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)