লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে ভারত থেকে আসা একটি চিতাবাঘের আক্রমণে নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে ৯০৫ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে মধ্যরাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ওড়ানো ড্রোনের ক্যামেরায় সীমান্তের একটি জঙ্গলে বাঘটির অবস্থান শনাক্ত হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বর্ণনায়, আমঝোল গ্রামের শরিফা বেগম (৩৪) ধানখেতে ছাগল খুঁজতে গিয়ে দেখেন, একটি বাঘ ছাগলকে আক্রমণ করছে। তিনি চিৎকার করলে বাঘটি তাঁকে ধাওয়া করে আক্রমণ করে। লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে এগিয়ে এলে নজরুল ইসলাম (৪৫) ও আফসার আলীও (৪০) আহত হন। মানুষের ধাওয়া আর টহলরত বিজিবির দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলিতে বাঘটি একটি ধানখেতে লুকায়।
এরপর হাজারো মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকা ঘিরে রাখেন। সন্ধ্যার পর বিজিবি মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করে এবং বাঘটি যেন ধানখেত বা লোকালয় থেকে পালাতে না পারে, সে জন্য চারপাশ ঘিরে রাখতে সহযোগিতা চায়। রাত বাড়লে নজরদারির জন্য ড্রোন ওড়ানো হয়।
লালমনিরহাট ১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম সোমবার সকালে নিশ্চিত করেন, রাতে চিতাবাঘটিকে ড্রোনে শনাক্ত করা হয়েছে এবং স্থানীয়রা রাতভর পাহারায় ছিলেন। ঢাকা ও রংপুর থেকে বন বিভাগের দুটি দল এসেছে, তাদের বাঘটির অবস্থান বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধারে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে।
আহতদের প্রথমে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মামুন রহমান জানান, প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাতীবান্ধা থানার ওসি (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন জানান, পুলিশ ও বিজিবি সারা রাত ঘটনাস্থলে ছিল।
প্রতিবেদন: বার্তা২৪.কম-এর লালমনিরহাট ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট।
ছবি: চিতাবাঘ (Panthera pardus fusca, প্রতীকী), Jenis patel / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বার্তা২৪





মন্তব্য
(০)