হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলার সংরক্ষিত পাহাড়ি এলাকা ও চা বাগানের উঁচু টিলা প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে ধসে পড়ছে, আর সেই মাটি গিয়ে মিশছে নদী ও ছড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মূল কারণ মানুষের তৈরি: নিয়মিত টিলা কাটা এবং পাহাড় ক্ষয় করে অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনা নির্মাণ।
স্থানীয়রা জানান, চা বাগান ও পাহাড়ের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট-বড় ছড়াগুলো বালু ও পলিতে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বর্ষা ও ঢলের সময় পানি স্বাভাবিকভাবে নামতে না পেরে প্রবল স্রোত তৈরি করে, যাতে টিলা ধসে পড়ে। এতে সাতছড়ি টিপড়া আদিবাসী বসতি, রামগঙ্গা সেতুসহ কয়েকটি সেতু, সুরমা চা বাগান এবং ঢাকা-সিলেট পুরোনো মহাসড়কের নানা অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাতছড়ি টিপড়া পল্লির হেডম্যান চিত্ররঞ্জন দেববর্মা জানান, ছড়া খনন না করায় বস্তির পাঁচটি বসতঘর ছড়ায় বিলীন হয়েছে, একটি ছোট ফুট ওভারব্রিজও ভেঙে গেছে। সুরমা চা বাগানের টিংকু সাঁওতাল বলেন, এ বছরের ঢলে ২০ নম্বর নির্মাণাধীন সেতুর সংযোগ সড়কে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে; ছড়া খনন করে গাছ লাগালে মাটিধস অনেকটা ঠেকানো যেত।
সুরমা চা বাগানের ব্যবস্থাপক বাবুল সরকার বলেন, বাগানের বিশাল এলাকায় টিলা ভাঙছে, ছড়া খনন করে স্রোত নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ভাঙন রোধ সম্ভব। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নেটওয়ার্ক সদস্য ওমাইয়া ফেরদৌস বলেন, সরকার টেকসই পদক্ষেপ না নিলে টিলাগুলো ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাবে।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক জিএম সরফরাজ বলেন, এ বছরও অনেক টিলা, চা বাগান ও সেতু ধসে গেছে; কীভাবে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা যায়, তার কারিগরি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান নয়, টিলা কাটা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন সমকালের মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি।
ছবি: Md Tipu Sultan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)