ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতার ৬০তম বার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে ২৩টি হাতি শিকারের অনুমতি দিয়েছে বোতসোয়ানা সরকার। শুক্রবার নেওয়া এ সিদ্ধান্তে জেলাভিত্তিক হাতি শিকারের কোটার অংশ হিসেবে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, সঙ্গে কয়েক প্রজাতির হরিণ শিকারেরও অনুমতি আছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, হাতির মাংস দুস্থ গ্রামীণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
আফ্রিকান সাভানা হাতি আইইউসিএনের বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় আছে। তবে বোতসোয়ানায় আনুমানিক ১ লাখ ৩০ হাজার হাতি রয়েছে, যা পৃথিবীর যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি। সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশটি ২০১৯ সালে শিকারের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিবছর ২০০ থেকে ৪০০টির বেশি হাতি শিকারের অনুমতি দিচ্ছে।
সরকারের যুক্তি, হাতির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও মানুষ-হাতির সংঘাত কমাতে নিয়ন্ত্রিত শিকার দরকার। আফ্রিকার নানা দেশে হাতির পাল কৃষকের ফসল ও অবকাঠামো নষ্ট করে, মানুষের প্রাণও যায়; বোতসোয়ানায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা আছে এবং প্রতিবছর এমন শত শত ঘটনা নথিভুক্ত হয়। বন্যপ্রাণী ও জাতীয় উদ্যান বিভাগের উপপরিচালক ডিমাকাতসো এনতশেবে বলেন, সংরক্ষণের সুফল সেই সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছানো উচিত, যারা বন্যপ্রাণীর পাশে বাস করে।
বোতসোয়ানা এলিফ্যান্ট প্রটেকশন সোসাইটি সিদ্ধান্তটিকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলেছে। তাদের আশঙ্কা, একটি হাতি মারা হলে পুরো পাল আত্মরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে, যা স্থানীয়দের ঝুঁকি বাড়াবে। ২০০৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকা ইয়ান খামার মতে, এতে ভবিষ্যতের জাতীয় অনুষ্ঠানেও হাতি নিধনের খারাপ প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে।
প্রতিবেদনটি ইত্তেফাক ডিজিটাল ডেস্কের।
ছবি: Gorgo / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)