সরকারি হাসপাতালে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) মাধ্যমে বসানো ৭০টি মেডিকেল অক্সিজেন প্লান্টের মধ্যে মাত্র ৯টি থেকে রোগীরা নিয়মিত অক্সিজেন পাচ্ছেন। ৩১টি কারিগরি ত্রুটিতে অচল, আর ৩০টি সচল থাকলেও সার্বক্ষণিক চালু নেই। শনিবার ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে (আইইউবি) শুরু হওয়া "বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট ২০২৬"-এ এ চিত্র উঠে এসেছে।
জাতিসংঘের প্রকল্পসেবা কার্যালয় ইউএনওপিএসের বাংলাদেশের সিনিয়র অ্যানালিস্ট মারুফ হাসান জানান, ৬৪টি জেলা হাসপাতাল, ২৮টি বিশেষায়িত হাসপাতাল ও সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ৯৯টি পিএসএ ও ভিএসএ অক্সিজেন প্লান্ট বসানো হয়েছে, খরচ ২৪১ কোটি টাকা। এর ৪০টি সরকারের অর্থে ও ৩০টি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ঋণে সিএমএসডির মাধ্যমে বসানো। গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়নে ইউএনওপিএস যে ২৯টি বসিয়েছে, তার সবগুলো চালু আছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সিএমএসডির সাতটি প্লান্ট এখনো হাসপাতালের কেন্দ্রীয় অক্সিজেন পাইপলাইনে যুক্ত হয়নি। স্থায়ী বাজেট ও প্রশিক্ষিত জনবল না থাকায় অনেক হাসপাতালে সাধারণ কর্মচারী দিয়ে প্লান্ট চালানো হয়, ফলে দিনে কয়েক ঘণ্টার বেশি চলে না। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না হলে উৎপাদিত অক্সিজেনের বিশুদ্ধতা চিকিৎসার উপযোগী মাত্রার নিচে নামতে পারে।
ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ কমিশন অন মেডিকেল অক্সিজেন সিকিউরিটির কো-চেয়ার ড. আহমেদ এহসানুর রহমান জানান, দেশে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষের জরুরি অক্সিজেন লাগে: অস্ত্রোপচারে প্রায় ৫৪ লাখ, তীব্র শ্বাসকষ্টে ১৯ লাখ, আর দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগে আরও প্রায় দুই লাখ। প্রয়োজনের সময় ৭০ শতাংশ মানুষ ঠিকমতো অক্সিজেন পান না। নিউমোনিয়া, হৃদ্রোগ, সড়ক দুর্ঘটনা, সেপসিস, নবজাতকের জটিলতা ও ডেঙ্গুর চিকিৎসায় অক্সিজেন জরুরি; গবেষণায় রক্তে অক্সিজেন-ঘাটতির রোগীর হাসপাতালে মৃত্যুঝুঁকি পাঁচ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।
বক্তারা সতর্ক করেন, ইউএনওপিএসের ২৯টি প্লান্টের কারিগরি জনবলের বেতনের অনুদান ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তিও ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। সরকার নিজের বাজেটে জনবল ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব না নিলে এবং অচল প্লান্ট মেরামত না করলে বড় সংকট হতে পারে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর হোসেন অক্সিজেনের মান নিশ্চিতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্পের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে যুক্ত করার তাগিদ দেন।
দুই দিনের সামিটের আয়োজক আইইউবি, বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্ক এবং আইইউবির সেন্টার ফর হেলথ ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড পলিসি সায়েন্সেস। প্রতিবেদনটি সমকালের।
ছবি: Vantey / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)