পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানা বিশ্বের অন্যতম বড় ব্যবহৃত পোশাক আমদানিকারক। স্থানীয় ভাষায় এই পোশাকগুলোকে বলা হয় ‘ওব্রোনি ওয়াউ’, অর্থাৎ মৃত শ্বেতাঙ্গ মানুষের পোশাক। রাজধানী আক্রার জেমসটাউন ও কোর্লে লেগুনের সৈকতে এখন বালির চেয়ে কাপড়ের টুকরাই বেশি চোখে পড়ে, দূর থেকে মনে হয় সৈকতে পাহাড় গজিয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকার একটি ছবির প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের একাংশ, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রতি সপ্তাহে বিপুল ব্যবহৃত পোশাক ঘানায় পৌঁছায়। আক্রার কান্টামান্টো মার্কেটে এগুলো পুঁটলি ধরে বিক্রি হয়, খুলে দেখার সুযোগ নেই। ফাস্ট ফ্যাশনের কারণে কাপড়ের মান কমেছে, বেশির ভাগই নিম্নমানের পলিয়েস্টার; ফলে পুঁটলির প্রায় ৪০ শতাংশ পোশাকই দাগযুক্ত, ছেঁড়া বা পরার অযোগ্য, আর প্রতি মাসে টন টন পোশাক ফেলে দেওয়া হয়।
আক্রার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দুর্বল, তাই এসব পোশাকের বড় অংশ যায় নর্দমা আর অননুমোদিত ভাগাড়ে, যার অনেকগুলো সমুদ্রের ধারে। সেখান থেকে ঢেউয়ে ভেসে কাপড় জমছে সৈকতে। পলিয়েস্টার, নাইলন ও অ্যাক্রিলিকের এই পোশাক ঢেউয়ে ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি করছে, যা সমুদ্রের পানি দূষিত করছে আর সামুদ্রিক প্রাণীর ক্ষতি করছে।
স্থানীয় মৎস্যজীবীরাও বিপাকে। তাঁদের অভিযোগ, অনেক সময় জাল ফেললে মাছের বদলে বালিভরা কাপড়ের দলা উঠে আসে। বালিতে কাপড়ের কণা মিশে আর্দ্রতা বাড়ছে, পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে, বন্যা আর মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। বালির নিচে চাপা কাপড় দড়ির মতো জট পাকিয়ে যায়, ঢেউয়ের কাছে তাতে পা আটকে গেলে প্রাণঝুঁকিও তৈরি হয়। বিভিন্ন পরিবেশবিদের মতে, এতে বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যও ঝুঁকিতে।
বেশ কিছু বেসরকারি সংস্থা ঘানা সরকারকে ব্যবহৃত পোশাক আমদানিতে সতর্ক হতে ও তা কমাতে বলেছে, আর কেউ কেউ সৈকতে জমা পুরোনো কাপড়ের সুতো দিয়ে নতুন জিনিস বানানোর চেষ্টা করছে। তবে এই পোশাকের পাহাড় কবে সরবে, তার উত্তর এখনো মেলেনি।
সূত্র: আনন্দবাজার




মন্তব্য
(০)