রাজধানীর গুলশান-বনানী লেকের কালচে পানির ওপর দূর থেকে যা প্লাস্টিকের আবর্জনার স্তূপ মনে হয়, কাছে গেলে তা সবুজ সবজিখেত। পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল কাজে লাগিয়ে লেকের বুকে ভাসমান খেত গড়েছেন কড়াইল বস্তির কয়েকজন বাসিন্দা; মাটির বদলে পানির ওপরেই ফলছে কচু, কচুর লতি, পুঁইশাক আর লালশাক। দিনাজপুর টিভি এ খবর দিয়েছে।
উদ্যোগটি নিয়েছেন কড়াইলের সাত্তার, রুবেল, নূর, আরিফা ও আলীসহ কয়েকজন। লেক দখল না করে তাঁরা লেকপাড়ের অব্যবহৃত জায়গা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে চাষ চালাচ্ছেন।
ভাসমান বেড বানানোর কৌশলও সহজ: বাঁশের কাঠামোর ওপর সংগ্রহ করা খালি প্লাস্টিকের বোতল আর নারকেলের ছোবড়া শক্ত সুতায় বেঁধে মজবুত পাটাতন তৈরি হয়, তার ওপর হালকা মাটির আস্তরণ দিয়ে লাগানো হয় সবজির চারা। বেডে কলাবতীসহ শোভাবর্ধক গাছও লাগানো হয়েছে, ফলে লেকের দৃশ্যও বদলেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে লেকের পানি এত দূষিত ছিল যে নামলে চুলকানি হতো, চারপাশ নোংরা থাকত; এখন তা অনেকটা কমেছে। এই খেতের রাসায়নিকমুক্ত সবজি বাসিন্দাদের পুষ্টির চাহিদা মেটাচ্ছে। উদ্যোক্তারা নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে কখনো নামমাত্র দামে, কখনো বিনা মূল্যে প্রতিবেশীদের সবজি দিচ্ছেন; চাষের জায়গার কাঁঠালগাছে ফল এলে তা-ও সবাই ভাগ করে খান।
যে প্লাস্টিকের বোতল একসময় লেকের পরিবেশ নষ্ট করত, সেটিই এখন সবজির ভিত। সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢাকার অন্য সংকটাপন্ন জলাশয়েও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এমন উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, আর দক্ষিণাঞ্চলের ভাসমান চাষের পুরোনো কৌশলটিই এখানে শহরের বর্জ্য দিয়ে নতুন রূপ পেয়েছে।
ছবি: Azimronnie / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); ওপরের ছবিটি প্রতীকী
সূত্র: দিনাজপুর টিভি





মন্তব্য
(০)