ফলন আর দাম দুটোই ভালো, খরচ আর পরিচর্যা কম: এই হিসাবে দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে কাঁচামরিচের চাষ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, আগে যেখানে উপজেলায় ২ থেকে ৩ হেক্টরে মরিচ হতো, এখন তা বেড়ে ৮ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে; অনেকে এখন টবেও মরিচ লাগাচ্ছেন।
এ পরিবর্তনের শুরু আলিহাট ইউনিয়নের মুর্শিদপুর গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমানের হাত ধরে। বগুড়ার কাহালুতে বেড়াতে গিয়ে তিনি দেখেন, সেখানকার কৃষকেরা ধান না করে মরিচ চাষ করে লাভ করছেন। সেখান থেকে বীজ, পরামর্শ আর ওষুধপত্র এনে প্রথমে অল্প জমিতে, এবার ৩ বিঘায় মরিচ লাগিয়েছেন তিনি।
আতিয়ার জানান, ধানে টানা লোকসান গুনছিলেন, খরচের টাকাই উঠত না। এবার মরিচে খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা, এরই মধ্যে বিক্রি করেছেন আড়াই লাখ টাকার, আর খেতে যা আছে তাতে আরও আড়াই লাখ টাকা পাওয়ার আশা। কাঁচামরিচ এখন ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে তাঁর আশঙ্কা, সরকার বিদেশ থেকে মরিচ আমদানি করলে দাম পড়ে যায় আর লোকসানের ঝুঁকি তৈরি হয়।
তাঁর দেখাদেখি গ্রামের অনেকে মরিচে ঝুঁকছেন। আগে রিকশাভ্যান চালাতেন মোস্তাফিজুর রহমান; এখন জমি বর্গা নিয়ে মরিচ লাগিয়েছেন। কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ধানে লোকসান বলেই তাঁরা মরিচে লাভ খুঁজছেন, আর আফজাল হোসেন আগামী বছর থেকে ধান ছেড়ে অন্তত অল্প জমিতে মরিচ করার কথা ভাবছেন।
খেতমজুরদের কাজও বেড়েছে। শ্রমিক তারিকুল ইসলাম জানান, আগে শুধু ধানের খেতে কাজ করতেন; এখন মরিচগাছ বাঁধা, ঘাস তোলা আর গোড়া বাঁধার কাজ পাচ্ছেন, সেই মজুরিতে সংসার ভালোভাবে চলছে।
কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, কৃষি বিভাগ নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করে মরিচচাষিদের পরামর্শ দিচ্ছে, আর আগামীতে উপজেলায় মরিচের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি। খবরটি দিয়েছেন দেশ রূপান্তরের হিলি প্রতিনিধি।
ছবি: Ssmmgbsanskriti / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)