গ্রামীণ পরিবারকে বেশি জমি দিলেই তারা বাণিজ্যিক কৃষক হয়ে উঠবে, এমন ধারণা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্রি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কৃষিব্যবস্থা গবেষক দল। দ্য কনভারসেশনে প্রকাশিত ও ফার্মিং পোর্টালে পুনঃপ্রকাশিত লেখায় তারা বলেন, দেশটির নীতিমালা সাবেক ‘হোমল্যান্ড’ অঞ্চলে কৃষিকেই উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি ধরে নেয়।
দলটি কাজ করেছে ১৩২টি ক্ষুদ্র কৃষক পরিবারের সঙ্গে, কোয়াজুলু-নাটালের বার্গভিলের কাছে এমাউস এবং ফ্রি স্টেটের ব্লুমফন্টেইন থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের থাবা এনচুতে। জরিপ, জীবনকাহিনি সাক্ষাৎকার, খামারের মানচিত্র ও দলগত আলোচনা ব্যবহার করা হয়।
চাষ খাদ্য নিরাপত্তা ও আয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা খুব কমই আয়ের প্রধান উৎস। পরিবারগুলো মজুরি, ছোট ব্যবসা ও সামাজিক ভাতার সঙ্গে চাষ মিলিয়ে চলে, আর প্রায়ই সেই টাকা আবার চাষে খাটায়। এমাউসের মাত্র ১৬ শতাংশ ও থাবা এনচুর ১৯ শতাংশ পরিবার মাথাপিছু মাসে ৮৬৮ র্যান্ডের (প্রায় ৫৪ ডলার) খাদ্য দারিদ্র্যসীমা পেরোতে পেরেছে, আর তাদের আয়ের বড় অংশ এসেছে খামারের বাইরে থেকে।
অনেক ক্ষেত্রে জমি সবচেয়ে বড় বাধা নয়; অনেক পরিবার নিজের সব জমিই চাষ করতে পারে না। গবেষকেরা চারটি বাধা পেয়েছেন: শ্রমের ঘাটতি, এমাউসে খারাপ রাস্তা ও পানির অবকাঠামো, থাবা এনচুতে যৌথ চারণভূমি নিয়ে বিরোধ, আর খাওয়ার জন্য ভুট্টা ও শিম চাষের প্রবণতা, যাতে বাজারমুখী ফসলের জায়গা কমে।
আকাঙ্ক্ষাও আলাদা। এমাউসে মাত্র ১২ শতাংশ ও থাবা এনচুতে ৩৬ শতাংশ পরিবারপ্রধান চাষকে ব্যবসা হিসেবে দেখতে চান, অথচ ১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সী সদস্যদের ৬৪ ও ৮০ শতাংশ চান পড়াশোনা, চাকরি বা অন্যত্র যাওয়া। গবেষকদের মতে, শ্রম, বাজার, প্রতিষ্ঠান ও মানুষের আকাঙ্ক্ষা একসঙ্গে বিবেচনা করে কৃষিব্যবস্থাভিত্তিক পরিকল্পনা দরকার, আর তরুণদের সুযোগ হয়তো আংশিকভাবে কৃষির বাইরেও।
লেখাটি ফ্রি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের, প্রথম প্রকাশ দ্য কনভারসেশনে, পুনঃপ্রকাশ করেছে ফার্মিং পোর্টাল।
ছবি: Ryanj93 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: FarmingPortal





মন্তব্য
(০)