জলবায়ু পরিবর্তন, তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার সঙ্গে দীর্ঘদিনের কম চাহিদা মিলে বড় সংকটে পড়েছে ফ্রান্সের ওয়াইন শিল্প। অর্থসূচকের প্রতিবেদক মাসুম রহমানের সিএনবিসি-নির্ভর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাসে ২০২৬ সালে ওয়াইন উৎপাদন প্রায় ৭০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামতে পারে—টানা তৃতীয় বছরের হ্রাস।
বারগান্ডির গ্রঁ ক্রু আঙুর বাগানের বৃহত্তম মালিক মেজোঁ লুই লাতুরের প্রধান নির্বাহী ফ্লোরাঁ লাতুর বলেন, গ্রীষ্মজুড়ে তাঁরা বৃষ্টির অপেক্ষায় ছিলেন; শেষ পর্যন্ত মান ধরে রাখা গেলেও স্বাভাবিক ফলনের প্রায় অর্ধেক পাওয়া গেছে। আইএনএসইইসি গ্র্যান্ড একোলের ওয়াইন ও স্পিরিটস বিভাগের প্রধান জ্যঁ-মারি কারদেবার মতে, চলতি দশকের শুরু থেকেই উৎপাদন পরিস্থিতি খারাপ এবং ফ্রান্সের কোনো ওয়াইন অঞ্চলই এখন তাপপ্রবাহের ঝুঁকিমুক্ত নয়।
নাতিশীতোষ্ণ লোয়ার উপত্যকা ও শ্যাম্পেনে এবার ক্ষতি বেশি, যদিও বোর্দো ও ল্যাঙ্গদক-রুসিয়োঁর উৎপাদকেরা গত বছরের চেয়ে কিছুটা বেশি ফলনের কথা জানিয়েছেন। কারদেবার মতে, স্পেনে সেচব্যবস্থা তুলনামূলক উন্নত হলেও ফ্রান্সে আঙুর বাগানে সেচের অনুমতি সীমিত ও বিশেষ পরিস্থিতিতে মেলে—জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর এই সীমাবদ্ধতাই বড় চ্যালেঞ্জ।
তাপমাত্রা বাড়ায় আঙুর সংগ্রহ এগিয়ে আসছে: লাতুর জানান, চলতি বছর তাঁদের সংগ্রহ শুরু হয়েছে ১৪ আগস্টে, প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে সবচেয়ে আগে; প্রতি দশকে সংগ্রহের মাঝামাঝি সময় প্রায় তিন দিন করে এগোচ্ছে এবং ১৯৩০-এর দশকের তুলনায় এখন প্রায় এক মাস আগে। এতে শ্রমিক ও সরঞ্জাম নামানোর সিদ্ধান্ত অল্প সময়ে নিতে হচ্ছে, পূর্বাভাস ভুলের ঝুঁকিও বাড়ছে।
গত পাঁচ বছরে মূল্যস্ফীতি ও শুল্কের চাপে বাজারে ওয়াইনের মজুত বেড়েছে, তাই অনেক উৎপাদক আঙুরের গাছ তুলে উৎপাদন কমাচ্ছেন। শুধু বোর্দোয় ২০২৩ সাল থেকে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর বাগান তুলে ফেলা হয়েছে; অবশিষ্ট প্রায় ৮৩ হাজার হেক্টর। ২০২৬ সালে সরকারি কর্মসূচিতে দেশের মোট আঙুর বাগানের প্রায় ৪ শতাংশ তুলে ফেলা হতে পারে, স্থায়ীভাবে গাছ তোলায় হেক্টরপ্রতি ৪ হাজার ইউরো সহায়তা মিলছে।
সংকট সামলাতে উৎপাদকেরা নতুন বাজার, নতুন পণ্য ও নতুন প্রজন্মের ভোক্তায় জোর দিচ্ছেন। কারদেবা নতুন প্যাকেজিং ও প্রস্তুত পানযোগ্য ওয়াইনের সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে পরীক্ষার বাজার হিসেবে দেখছেন; দক্ষিণ আমেরিকা, ব্রাজিল ও ভারতকেও সম্ভাবনাময় বাজার ধরা হচ্ছে। লাতুরের মতে, সাশ্রয়ী দামে ভালো মানের পণ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছানো জরুরি; তাঁদের বাজার দক্ষিণ আমেরিকা, ব্রাজিল ও আফ্রিকায় বাড়ছে, আর ওয়াইনের ইতিহাস ও অঞ্চলের কথা সহজ ভাষায় তুলে ধরতে পারলে ভোক্তার আগ্রহ ধরে রাখা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী।
সূত্র: অর্থসূচক — প্রতিবেদন: মাসুম রহমান (সিএনবিসির বরাতে)





মন্তব্য
(০)