কপ৩১ শুরুর সপ্তাহখানেক আগে, ৩ নভেম্বর, বন উজাড় বন্ধের বহুল প্রতীক্ষিত রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে কপ৩০ সম্মেলনের ব্রাজিলীয় সভাপতিত্ব। কার্বন ব্রিফের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, দলিলটি স্বেচ্ছাভিত্তিক, জাতিসংঘের আলোচনার বাইরে এবং এতে কোনো নতুন প্রতিশ্রুতি নেই।
বেলেমে নেতাদের সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা প্রথম এই প্রস্তাব দেন। কপ৩০ শেষে ৯৩টি দেশ এতে যুক্ত হয়, কিন্তু ঐকমত্যের জন্য দরকার ছিল ১৯৬ পক্ষের সমর্থন। তাই সম্মেলনের সভাপতি আন্দ্রে কোরেয়া দো লাগো (André Corrêa do Lago) জানান, কাজটি হবে কপ প্রক্রিয়ার বাইরে।
২০৩০ সালের মধ্যে বন উজাড় ঠেকানোর অঙ্গীকার আগেও হয়েছে: ২০১৪ সালের নিউইয়র্ক ঘোষণা, কপ২৬-এ ১৪০টির বেশি দেশের গ্লাসগো ঘোষণা এবং কপ২৮-এর গ্লোবাল স্টকটেক। নতুন রোডম্যাপের লক্ষ্য সেসব সিদ্ধান্তকে দেশভিত্তিক সমন্বিত কাজে রূপ দেওয়া।
ক্লাইমেট পলিসি ইনিশিয়েটিভ এর সচিবালয়ের দায়িত্বে ছিল। তারা ২০০টির বেশি মতামত পেয়েছে, কিন্তু দেশের কাছ থেকে এসেছে মাত্র ১৮টি, আর চারটি এসেছে দেশজোটের কাছ থেকে।
দলিলে জাতীয় উদ্যোগ, আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ও অর্থায়ন, এই তিন ভাগে কথা বলা হয়েছে। দেশগুলোর জন্য আছে ১৮টি নীতি বা পদ্ধতি, যেমন সংরক্ষিত এলাকা গড়া, আদিবাসীদের ভূমি অধিকারের স্বীকৃতি, পোকা ও উদ্ভিদের রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং বন রূপান্তরের অনুমতি সীমিত করা। আছে পাঁচ ধাপের একটি পথরেখাও। বাণিজ্য প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, রপ্তানিকারকের ওপর বোঝা চাপানোর চেয়ে নিয়ম মানলে পুরস্কার দেওয়া সাধারণত বেশি কার্যকর।
রোডম্যাপের হিসাবে ২০৩০ সালের মধ্যে বন উজাড় থামাতে ও ফেরাতে বছরে ৩০ হাজার কোটি ডলার দরকার। এখন আসছে তার এক-তৃতীয়াংশেরও কম, যার প্রায় ৯০ শতাংশ দেশগুলোর নিজস্ব সরকারি অর্থ।
ব্রাসিলিয়ায় প্রকাশ অনুষ্ঠানে কোরেয়া দো লাগো জানান, ২০২২ সালের পর ব্রাজিলে বন উজাড় ৭০ শতাংশের বেশি কমে রেকর্ড সর্বনিম্নে নেমেছে। রোডম্যাপটি একটি জীবন্ত দলিল হবে বলে তাঁর আশা।
ছবি: Alexander Gerst / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Carbon Brief



মন্তব্য
(০)