২০১৯ সালের আমন মৌসুমে সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কেজি ২৬ টাকা দরে ৬ লাখ মেট্রিক টন আমন ধান কেনার ঘোষণা দেয়। ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, ঢাকায় সচিবালয়ে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। ঢাকা ট্রিবিউন সেদিন খবরটি প্রকাশ করে। মন্ত্রী জানান, ধান কেনা শুরু হবে ২০ নভেম্বর।
ধান ও চাল কেনার লক্ষ্য ও দাম
ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাদ্যমন্ত্রী বলেন, কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার পাশাপাশি মিলারদের মাধ্যমে চালও কেনা হবে। তাঁর ঘোষণায় সংগ্রহের হিসাব ছিল এ রকম:
- সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে আমন ধান: ৬ লাখ মেট্রিক টন, প্রতি কেজি ২৬ টাকা
- মিলারদের কাছ থেকে সিদ্ধ চাল: ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন, প্রতি কেজি ৩৬ টাকা
- মিলারদের কাছ থেকে আতপ চাল: ৫০ হাজার মেট্রিক টন, প্রতি কেজি ৩৫ টাকা
মন্ত্রী জানান, কৃষকের কাছ থেকে আমন ধান কেনা চলবে ২০ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, আর সিদ্ধ ও আতপ চাল কেনা হবে ১ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত বাংলাদেশ পোস্টের প্রতিবেদনেও সে মৌসুমের সংগ্রহের এই পরিমাণ, দাম ও সময়সীমার উল্লেখ রয়েছে।

প্রকৃত কৃষকের তালিকা ও লটারি
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ১০ নভেম্বরের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ইউনিয়ন পর্যায় থেকে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা পাঠাবে। তালিকায় কৃষকের সংখ্যা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হলে লটারির মাধ্যমে কার কাছ থেকে ধান কেনা হবে তা ঠিক করা হবে। ২০১৯ সালের নভেম্বরে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনেও আমন মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে ৬ লাখ টন ধান কেনা এবং লটারির মাধ্যমে কৃষক বাছাইয়ের কথা এসেছে।
খাদ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন।

আমন মৌসুম ও সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনা
আমন বাংলাদেশের তিনটি ধান মৌসুমের একটি। সাধারণত জুলাই-আগস্টে আমন ধান রোপণ করা হয় এবং নভেম্বর-ডিসেম্বরে কাটা হয়। ফলে ২০ নভেম্বর থেকে সরকারি ধান কেনা শুরু হওয়ার সময় মাঠে নতুন আমন ধান কাটা চলে।
সরকারের পক্ষে খাদ্যশস্যের সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালনা, মজুত ও বিতরণের কাজ করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদপ্তর। ১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষের পর গঠিত খাদ্য বিভাগ থেকে এর যাত্রা শুরু। রেশনসহ নানা মাধ্যমে খাদ্য বিতরণ এবং বাজারে খাদ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
এমন একটি বিতরণ কর্মসূচি হলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি চালু হওয়া এ কর্মসূচিতে প্রায় ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবার সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর এবং মার্চ-এপ্রিলে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি চাল প্রতি কেজি ১০ টাকা দরে কিনতে পারে।

ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন, বাংলাদেশ পোস্ট, দ্য ডেইলি স্টার, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)