সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ৪ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা৩৩°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৫২%বাতাস ৪ কিমি/ঘ

উৎপাদন বেড়েছে পাঁচ গুণ, সঙ্গে বেড়েছে অপচয় আর ক্ষুধা: উম্মে সালমার কলাম

দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত কলামে উম্মে সালমা লিখেছেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ৩৪ শতাংশ ক্ষয় বা অপচয় হয়, অথচ দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে পারেন না।

উৎপাদন বেড়েছে পাঁচ গুণ, সঙ্গে বেড়েছে অপচয় আর ক্ষুধা: উম্মে সালমার কলাম
মতামত

খাদ্যক্ষয় ও অপচয় বিষয়ক আন্তর্জাতিক সচেতনতা দিবস (২৯ সেপ্টেম্বর) উপলক্ষে দ্য ডেইলি স্টারে লেখা কলামে উম্মে সালমা যুক্তি দিয়েছেন, বাংলাদেশের খাদ্য সংকট উৎপাদন-স্বল্পতার নয়; এটি বণ্টন, ব্যবস্থাপনা, ন্যায্যতা ও অধিকারের সংকট। কলামের মতামত লেখকের নিজস্ব।

লেখক মনে করিয়ে দেন, ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরে দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল ১ কোটি ১০ লাখ টন, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ১১ লাখ টনে। অথচ জাতিসংঘের পাঁচ সংস্থার যৌথ প্রতিবেদন "বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির অবস্থা ২০২৬" অনুযায়ী ২০২৩-২৫ সময়ে ৪ কোটি ৫৪ লাখ মানুষ (জনসংখ্যার ২৬ দশমিক ২ শতাংশ) মাঝারি থেকে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগেছেন, আর দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্য কেনার সামর্থ্য নেই।

কলামে উদ্ধৃত বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দেশে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ৩৪ শতাংশ ক্ষয় বা অপচয় হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় ও এফএওর ২০২৪ সালের বিশ্ব খাদ্য দিবসের সেমিনারে ফল ও সবজির বার্ষিক ক্ষয় ও অপচয় বলা হয়েছিল ৪০ দশমিক ২ শতাংশ। ইউএনইপির খাদ্য অপচয় সূচক ২০২৪ অনুযায়ী বাংলাদেশে বাসাবাড়িতে মাথাপিছু বছরে ৮২ কেজি খাবার নষ্ট হয়।

লেখক দুটি শব্দ আলাদা করেছেন: খুচরা বাজারে পৌঁছানোর আগে উৎপাদন, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ বা পরিবহনে যা নষ্ট হয় তা খাদ্যক্ষয়, যার পেছনে হিমাগারের অভাব, দুর্বল পরিবহন ও দুর্যোগ; আর বাজার, খাদ্যসেবা বা ভোক্তা পর্যায়ে ফেলে দেওয়া খাবার অপচয়, যার কারণ আচরণগত। বাংলাদেশে ক্ষয়ের বড় অংশ মাঠ থেকে বাজারে পৌঁছানোর পথে ঘটে; পচনশীল ফল-সবজির জন্য পর্যাপ্ত হিমাগার নেই, সংগ্রহোত্তর পদ্ধতি পুরোনো, আর দাম পড়ে গেলে কৃষক কখনো নিজের ফসল নষ্ট করেন।

বিশ্বব্যাংকের "বাংলাদেশ খাদ্যক্ষয় ও অপচয় ডায়াগনস্টিক ২০২৫" উদ্ধৃত করে তিনি লিখেছেন, শুধু নষ্ট হওয়া খাদ্য উৎপাদনেই প্রায় ৩৪ হাজার বর্গকিলোমিটার জমি ব্যবহৃত হয়, যা মোট কৃষিজমির প্রায় ২৭ শতাংশ, আর দেশের গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ১৩ শতাংশ আসে এই ক্ষয় ও অপচয় থেকে।

লেখকের মতে, ক্ষয় ও অপচয় কমালে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি বাড়বে, প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ ও নির্গমন কমবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১২.৩ অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে খুচরা ও ভোক্তা পর্যায়ে মাথাপিছু অপচয় অর্ধেকে নামানোর কথা, কিন্তু বর্তমান পরিসংখ্যান দেখায় সে লক্ষ্য থেকে দেশ অনেক দূরে। জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি ২০২০-এ মাঠপর্যায়ে সময়মতো ফসল কাটা ও সঠিক সংরক্ষণসহ বহুমুখী উদ্যোগের কথা বলা আছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

সূত্র: দ্য ডেইলি স্টার

দ্য ডেইলি স্টারসূত্র

মতামত

সম্পর্কিত খবর

ইসলাম

দ্বৈত নাগরিকের হজ: বাংলাদেশ কোটায় যাওয়া বৈধ, পাসপোর্টে লুকোচুরি নয়

যুক্তরাজ্যের ব্যারিস্টার নাজির আহমদ লিখেছেন, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিকেরা বাংলাদেশের কোটায় হজে যেতে পারেন, তবে ফেরার পথে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে পাসপোর্ট বদলানো নৈতিক ও আইনগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

বার্তা২৪৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

কীটনাশক বিক্রেতার পরামর্শে ঝুঁকিতে ফসল, দরকার নিরপেক্ষ ডিজিটাল কৃষি পরামর্শ: সমীরণ বিশ্বাসের মত

জাগো নিউজে কৃষিবিদ সমীরণ বিশ্বাস লিখেছেন, ফসলের সমস্যায় কৃষক কৃষি কর্মকর্তার বদলে উপকরণ বিক্রেতার কাছে যান; বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ-সনদ, প্রেসক্রিপশনভিত্তিক বালাইনাশক ও এআই-সেন্সরভিত্তিক ডিজিটাল পরামর্শ চান তিনি।

জাগো নিউজ ২৪৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মতামত

অনুমতি ছাড়া অনলাইনে ইসলামি বই, বিক্রি কমেছে ৮০-৯০ শতাংশ: মাওলানা হেমায়েত উদ্দীনের মত

প্রবীণ আলেম ও লেখক মাওলানা মুহাম্মাদ হেমায়েত উদ্দীন আওয়ার ইসলামে লিখেছেন, প্রকাশকের অনুমতি ছাড়া বই আপলোড গ্রন্থস্বত্ব আইনের লঙ্ঘন ও মাসয়ালাগতভাবে না-জায়েজ; আইনি ব্যবস্থার আহ্বান।

আওয়ার ইসলাম৪ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)