যুক্তরাজ্য থেকে হজে যাওয়া অনেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি মুসলিমের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে, লিখেছেন ইংল্যান্ডের প্র্যাকটিসিং ব্যারিস্টার ও সংবিধান-অভিবাসন বিশেষজ্ঞ নাজির আহমদ। তাঁর মতে কারণ দুটি: ব্রিটিশ মুসলিমদের হজ কোটা সীমিত ও দ্রুত পূরণ হয়ে যায়, আর খরচ বাংলাদেশ থেকে যাওয়া হজযাত্রীদের চেয়ে প্রায় আড়াই থেকে তিন গুণ।
তাই অনেকে বাংলাদেশে গিয়ে সেখানকার কোটায় হজে যান। বার্তা২৪-এ প্রকাশিত লেখায় তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের কোটা বড় এবং প্রতিবছর অপূরণ থাকে, খরচও অনেক কম; দ্বৈত নাগরিক বাংলাদেশের পূর্ণ নাগরিক, তাই এ সুযোগ নিতে আইনে কোনো বাধা নেই। দুটি পাসপোর্ট রাখা ও ব্যবহারও বৈধ, তবে ভ্রমণের একেক পর্যায়ে বহির্গমন ও আগমনের সিল একই পাসপোর্টে থাকতে হবে।
সমস্যা তৈরি হয় ফেরার পথে। বাংলাদেশ থেকে হজ ভিসা পেতে রিটার্ন টিকিট লাগে, কারণ ওয়ানওয়ে টিকিটে ভিসা মেলে না। লেখকের পর্যবেক্ষণ, অনেকে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে সৌদি থেকে লন্ডনের আলাদা ওয়ানওয়ে টিকিট কাটেন, বোর্ডিং পাস নেন ব্রিটিশ পাসপোর্টে আর ইমিগ্রেশনে দেখান আগমনের সিলওয়ালা বাংলাদেশি পাসপোর্ট। এভাবে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাকে অন্ধকারে রাখা হজযাত্রীর জন্য কতটা নৈতিক, সে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সব জানিয়ে যুক্তরাজ্যগামী রিটার্ন টিকিট করলে আইন বা নৈতিকতার কোনো ব্যত্যয় হয় না বলে তাঁর মত।
তাঁর পরামর্শ, অভিবাসন ও আইনের প্রশ্নে হজ ব্যবসায়ীদের কথায় না চলে বিবেক, বুদ্ধি ও আইন অনুযায়ী চলতে হবে; প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নিতে হবে। হজ ফরজ ইবাদত, আল্লাহর ঘরের মেহমান হয়ে যাওয়ার এ সফরে যেকোনো শঠতা, মিথ্যা বা লুকোচুরি থেকে বিরত থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সব ঘোষণা করা উচিত।
ট্রাভেল এজেন্সি, হজ ব্যবসায়ী ও দ্বৈত নাগরিক হজযাত্রীদের সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি তোলার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি: বাংলাদেশ হয়ে যাওয়া ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ব্যবহারে বিমানবন্দরগুলোতে স্পষ্ট লিখিত নির্দেশনা দেওয়া এবং ঢাকা-সৌদি-লন্ডন ওয়ানওয়ে টিকিটেই হজ ভিসা দেওয়া।
লেখাটির মতামত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: Karim Manji / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বার্তা২৪





মন্তব্য
(০)