কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল প্রায় সাত বছর আগে; ২০১৯ সালের অক্টোবরে জুমার নামাজের পর এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে প্রতি মসজিদের জন্য ১৩ থেকে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। চকরিয়ার মসজিদটি তিনতলা; প্রতিটি তলার আয়তন প্রায় ১ হাজার ৬৮০ বর্গমিটার। নকশায় নিচতলায় গাড়ি পার্কিং, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অটিজম কর্নার, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র এবং মৃতদেহ গোসল ও জানাজার ব্যবস্থা; দোতলায় পুরুষদের নামাজ কক্ষ, ইসলামিক লাইব্রেরি, প্রাক-প্রাথমিক ও কোরআন শিক্ষা এবং গবেষণা কেন্দ্র; তিনতলায় নারীদের নামাজ কক্ষ, হজযাত্রীদের ডিজিটাল নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কনফারেন্স রুম ও অতিথিদের আবাসন থাকার কথা।
এর মধ্যে নির্মাণকাজে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ওয়েল্ডিং করার ঘটনা ধরা পড়েছে। গত মঙ্গলবার চকরিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মিটার এবং মেইন লাইন থেকে নেওয়া সংযোগের তার জব্দ করা হয়। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ আইনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আঁখি এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির সাইট ইঞ্জিনিয়ার রাকিব হোসেন বলেন, মিটারের লাইনে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় মেইন লাইন থেকে সাময়িক সংযোগ নেওয়া হয়েছিল, যা তাঁদের ভুল ছিল। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মোমেন উল্লাহ জানান, দ্রুত মিটার পুনঃসংযোগ নিয়ে বাকি কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
গণপূর্ত অধিদপ্তর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী জানান, ২০১৯ সালে কাজ শুরুর কিছুদিন পর প্রথম ঠিকাদার কাজ ফেলে চলে যান; ২০২৩ সালের মাঝামাঝি পুনঃদরপত্রে কাজটি পান চট্টগ্রামের সেলিম আজম খাঁন। কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পরও কাজ শেষ হয়নি; আগামী বছরের মার্চের মধ্যে শেষ করতে না পারলে কাজ বাতিল ও জরিমানা আদায় করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, দশ মাসে তিনি কাজের তেমন অগ্রগতি দেখেননি।
স্থানীয়রা দ্রুত কাজ শেষ করে মসজিদটি মুসল্লিদের জন্য খুলে দেওয়া এবং প্রকল্পে অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনটি দৈনিক বাংলার।
ছবি: Shams141 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0); কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া মডেল মসজিদ, একই প্রকল্পের
সূত্র: দৈনিক বাংলা





মন্তব্য
(০)