গত জুমায় মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীর খুতবায় খতিবরা তওবা, ভুল সংশোধন এবং আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকার ওপর জোর দিয়েছেন।
মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. ফয়সাল বিন জামিল গাজাভি বলেন, মানুষ মাটি থেকে সৃষ্টি এবং স্বভাবগতভাবেই ভুলপ্রবণ। ভুল হলে হতাশার কিছু নেই; আসল বিপদ হলো ভুলের ওপর অটল থাকা ও তওবা থেকে দূরে থাকা। প্রকৃত মুমিন ভুলের পর অনুতপ্ত হয়ে দৃঢ় সংকল্পে সঠিক পথে ফিরে আসেন।
খতিব কুরআনে বর্ণিত আসহাবে ফিলের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দেন, যারা কাবা ধ্বংস করতে এসে ব্যর্থ হয়েছিল, এবং অতীতের জাতিগুলোর পরিণতি থেকে শিক্ষা নিতে বলেন। খুতবার দ্বিতীয় অংশে তিনি শিরক, দ্বীনের বিষয়ে বাড়াবাড়ি, বিদআত, নামাজ ত্যাগ, মা-বাবার অবাধ্যতা, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, গুজব রটানো ও সৎ উপদেশ প্রত্যাখ্যান থেকে বেঁচে থাকার আহ্বান জানান। তিনি সুরা আন-নুরের ৩১ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করেন, যেখানে মুমিনদের সবাইকে আল্লাহর দিকে তওবা করতে বলা হয়েছে।
মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব শায়খ আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-বুজাইয়ান বলেন, আল্লাহ বান্দাদের মধ্যে রিজিক বণ্টন করেছেন এবং তাদের বয়স ও পরিস্থিতিতে বৈচিত্র্য রেখেছেন; এই বণ্টনে সন্তুষ্ট থাকলেই অন্তরে প্রশান্তি আসে। অন্যের সম্পদের দিকে তাকিয়ে থাকা মানুষ বাহ্যত ধনী হলেও অন্তরে দরিদ্র হয়ে পড়ে।
তিনি স্পষ্ট করেন, কানাআত মানে অলস বসে থাকা বা রিজিকের চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া নয়; বৈধ পথে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে ফলাফলের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা করাই প্রকৃত কানাআত। তিনি তিরমিজির (২৩০৫) একটি হাদিস উল্লেখ করেন: আল্লাহ যা ভাগ করে দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকলে মানুষ সবচেয়ে ধনী হয়।
খুতবার শেষে খতিব অভাব ও প্রাচুর্য দুই দিয়েই আল্লাহর পরীক্ষার কথা মনে করিয়ে অসহায় মানুষের প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দেন। নিজের নিয়ামতের জাঁকজমক প্রদর্শন ও ছবি প্রকাশের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, এতে বঞ্চিত মানুষের মনে কষ্ট তৈরি হতে পারে; কিছু নিয়ামত ও নেক আমল গোপন রাখাও শুকরিয়ার অংশ।
প্রতিবেদনটি ইত্তেফাক ডিজিটাল ডেস্কের।
ছবি: Bluemangoa2z / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)