সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩৩°হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনাআর্দ্রতা ৫১%বাতাস ৪ কিমি/ঘবৃষ্টি ০.১ মিমি

মৌলভীবাজারের চার উপজেলায় বন্যায় ৩ হাজার ৯৩২টি কাঁচা ও আধাপাকা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই জানায়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলায় বন্যায় ৩ হাজার ৯৩২টি কাঁচা ও আধাপাকা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর ২ হাজার ৪৯৩টি সম্পূর্ণ।

মৌলভীবাজারের চার উপজেলায় বন্যায় ৩ হাজার ৯৩২টি কাঁচা ও আধাপাকা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত
পরিবেশ

মৌলভীবাজারে বন্যায় চার উপজেলার ৩ হাজার ৯৩২টি কাঁচা ও আধাপাকা ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই বুধবার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় জানায়। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৯৩টি ঘর সম্পূর্ণ এবং ১ হাজার ৪৩৯টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভরা বর্ষায় কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও মৌলভীবাজার সদরের বহু পরিবার মাথার ওপর শক্ত চাল হারিয়ে চরম বিপাকে পড়ে।

ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা জাগো নিউজকে জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারি বৃষ্টিতে কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও সদর উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নে বন্যা হয় এবং পানিতে কাঁচা ও আধাপাকা অনেক ঘর ধসে পড়ে। সেদিন সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার থেকে পাঠানো এই প্রতিবেদন আসে জেলার পাহাড়ি নদীগুলোর বাঁধ কয়েক জায়গায় ভেঙে যাওয়ার এক সপ্তাহ পর।

জেলা ত্রাণ কার্যালয়ের হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর


ঘরের এই হিসাব দেয় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়, যা সরকারের দুর্যোগ ত্রাণ প্রশাসনের জেলা দপ্তর এবং বন্যার সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, আশ্রয়কেন্দ্র ও ত্রাণ বরাদ্দের তথ্যও জানায়। কার্যালয়ের তালিকায় ছিল বাসিন্দাদের উল্লেখ করা সেই চার উপজেলাই: কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও মৌলভীবাজার সদর। তালিকার প্রতিটি ঘর ছিল দুই ধরনের যেকোনো একটি, কাঁচা (মাটির বা অস্থায়ী) অথবা আধাপাকা; কার্যালয় সেগুলোকে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত, এই দুই ভাগে ভাগ করে।

একটি পরিবারের কাছে এর অর্থ কী, তা বলেন রাজনগর উপজেলার বাসিন্দা রাসেল মিয়া। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘বন্যায় আমার ঘরের একপাশ ধসে পড়েছে। ঠিকমতো খাবার খাওয়ার টাকা নেই। ঘর ঠিক করবো কীভাবে?’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ঢেউটিন, চাল, নগদ অর্থ ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে আধাপাকা ঘরের এবং অনেক কাঁচা ঘরের চালা সাধারণত ঢেউটিনের, তাই ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের মাথায় আবার ছাউনি দিতে পরিবারের প্রথম যেসব জিনিস লাগে, ঢেউটিন তার একটি।

সপ্তাহের শুরুতে একই কার্যালয়ের প্রকাশিত হিসাব ছিল মানুষের: ১১ জুলাই জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা চার উপজেলার ৪২টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভায় ৯ হাজার ৯৯৮টি পরিবারের প্রায় ৩৮ হাজার ১৭২ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানান বলে দ্য ডেইলি স্টার জানায়। ১৫ জুলাই বাসিন্দারা বলেন ২৮টি ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ার কথা।

ধলাই ও মনুর বাঁধ ভাঙনের এক সপ্তাহ


বন্যা শুরু হয় ধলাই নদী দিয়ে। ৮ জুলাই বুধবার রাতে কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মখাবিলে ধলাইয়ের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। ৯ জুলাই ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, ইসলামপুর, আদমপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রাম পানির নিচে চলে গেছে, প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, আর ধলাই বইছে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। ইসলামপুর-আদমপুর প্রধান সড়ক তলিয়ে যায়, ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়সহ অন্তত আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢোকে, ক্লাস ও চলমান পরীক্ষা স্থগিত হয়, আর আউশ ধানের খেত তিন থেকে চার ফুট পানির নিচে চলে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা ঝুঁকিপূর্ণ মখাবিল অংশ সময়মতো মেরামত না করার জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) দায়ী করেন। মৌলভীবাজার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ওই স্থানে মেরামতকাজ শুরু হলেও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বাধায় তা শেষ করা যায়নি, আর আগের মেরামত করা অংশ স্রোতে ভেসে গিয়েছিল।

৯ জুলাই বৃহস্পতিবার রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর ও হরিপাশায় মনু নদীর বাঁধ ভেঙে যায়। দৈনিক ইনকিলাব জানায়, সকাল থেকে বাসিন্দা ও কর্মকর্তারা বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করলেও পানি বেড়ে শেষ পর্যন্ত বাঁধ ভেঙে যায়। দ্য ডেইলি স্টার বাংলা উজিরপুর, হরিপাশা, ইব্রাহিমপুর, কাঁচারী, একামধু, কান্দিরকুল ও পণ্ডিতনগরকে প্রায় ২০টি প্লাবিত গ্রামের মধ্যে উল্লেখ করে এবং রামভদ্রপুর, সালন, পাইকপাড়া, ডেফলউড়া, গণেশপুর, আকুয়া, কোনাগাঁও, টগরপুর ও ভাঙারহাটকে ঝুঁকিতে থাকা গ্রাম হিসেবে জানায়।

এর পেছনে ছিল টানা ভারি বৃষ্টি। ১০ জুলাই ইনকিলাব জানায়, শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিস দুই দিনে ১৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে; পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, মনুর বাঁধের অনেক জায়গা দিয়ে পানি উপচে পড়ছে এবং আরও চার-পাঁচটি জায়গা ভাঙনের ঝুঁকিতে আছে। সেদিন সন্ধ্যায় মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট সেতু পয়েন্টে মনু বিপৎসীমার ৭১ সেন্টিমিটার এবং কুলাউড়ার মনু সেতু পয়েন্টে ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছিল। টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ বাড়ির কাছে বন্যার পানিতে ভেসে যান; ১০ জুলাই শুক্রবার সকালে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয় বলে দ্য ডেইলি স্টার ও বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানায়।

১০ জুলাই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানায়, আমন ধানের বীজতলা ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, হাজারো মানুষ রাত কাটিয়েছেন স্কুলে ও আত্মীয়ের বাড়িতে, আর অনেক এলাকায় চলাচলের একমাত্র বাহন হয়ে উঠেছে নৌকা। জেলা প্রশাসন জানায়, জেলাজুড়ে ১৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, প্রয়োজনমতো সেগুলো খোলা হবে।

১১ জুলাই বিকেলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রকাশিত জেলা ত্রাণ কর্মকর্তার হিসাবে ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন প্রায় ১ হাজার ৯৫৮ জন। বরাদ্দ দেওয়া হয় ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার, ৫ লাখ টাকা নগদ ও ৫ টন চাল; ৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল এবং ১১টি মেডিকেল টিম কাজ করছিল। মাধবপুর সড়কে নূরজাহান চা-বাগানের ভেতরে গোয়ালবাড়িতে একটি কালভার্ট ভেঙে যায়। পাউবোর হিসাবে মনুর পানি তখন রেলওয়ে সেতু পয়েন্টে কমছিল, তবে তখনো বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপরে; চাঁদনীঘাটে ছিল ২৪ সেন্টিমিটার ওপরে, আর শেরপুরে কুশিয়ারা ছিল বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচে।

প্রতীকী ছবি: সিলেট নগরে আগের এক আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত ঘর থেকে জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসছেন এক ব্যক্তি; ছবিটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মৌলভীবাজারের বন্যার নয়। ছবি: Nayeemibnmatiur / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
প্রতীকী ছবি: সিলেট নগরে আগের এক আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত ঘর থেকে জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসছেন এক ব্যক্তি; ছবিটি ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মৌলভীবাজারের বন্যার নয়। ছবি: Nayeemibnmatiur / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

কেন কাঁচা ও আধাপাকা ঘরই ধসে পড়ে


এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া জানায়, বাংলাদেশে ঘরবাড়িকে নির্মাণসামগ্রী অনুযায়ী চার ভাগে ভাগ করা হয়:

  • ঝুপড়ি: পাটকাঠি, গাছের পাতা, চটের বস্তা ও এ ধরনের জিনিস দিয়ে তৈরি।
  • কাঁচা (অস্থায়ী) ঘর: মাটির ইট, বাঁশ, ছন ও কাঠ দিয়ে তৈরি, কখনো কখনো চালা ঢেউটিনের।
  • আধাপাকা (আধা-স্থায়ী) ঘর: দেয়ালের একাংশ ইটের, মেঝে সিমেন্টের এবং চালা ঢেউটিনের।
  • পাকা (স্থায়ী) ঘর: ইটের দেয়াল ও কংক্রিটের ছাদ, আয়ু ২৫ বছরের বেশি।

ঝুপড়ি ও কাঁচা ঘর অস্থায়ী, আর আধাপাকা ঘর আধা-স্থায়ী হিসেবে গণ্য। জ্ঞানকোষটি জানায়, গ্রামবাংলায় কাঁচা ঘরই প্রধান, আর শহরে পাকা ও আধাপাকা ঘরের প্রাধান্য। মৌলভীবাজারের তালিকার প্রতিটি ঘর ছিল মাঝের এই দুই শ্রেণির, অর্থাৎ গ্রামের বেশির ভাগ পরিবারের ঘর।

ঘর আবার তোলা সহজ নয়। বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, সাশ্রয়ী দামে নির্মাণসামগ্রী পাওয়ার কষ্ট বাংলাদেশে আবাসনের সমস্যাকে আরও কঠিন করে, আর কাঠ, বাঁশ, খড় ও পাতার মতো প্রচলিত স্থানীয় উপকরণ দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে। মাটি এখনো সহজলভ্য, তবে কিনে দূর থেকে বয়ে আনতে হলে তা-ও ব্যয়বহুল। ঘর কীভাবে মেরামত করবেন, রাসেল মিয়ার সেই প্রশ্নের পেছনে আছে এই বাস্তবতা।

হাওর অঞ্চলে ঘরের বিপদ শুধু বন্যার পানি নয়। বাংলাপিডিয়ার হাওর নিবন্ধে বলা হয়েছে, বর্ষায় হাওর বিশাল এক অন্তর্দেশীয় সাগরে পরিণত হয়, গ্রামগুলোকে তখন দ্বীপের মতো দেখায়, আর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাঝে মাঝে জোরালো বাতাসে বড় বড় ঢেউ ওঠে, যা বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি করতে পারে।

ত্রিপুরার পাহাড় থেকে আসা নদী: মনু, ধলাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী মৌলভীবাজারের উত্তরে সিলেট জেলা, দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বে আসাম ও ত্রিপুরা এবং পশ্চিমে হবিগঞ্জ; জেলার প্রধান নদী মনু, ধলাই, জুড়ী ও লংলা। এর মধ্যে মনু, ধলাই ও জুড়ী, তিনটিরই উৎস সীমান্তের ওপারে ত্রিপুরার পাহাড়ে।

মনু একটি আন্তঃসীমান্ত নদী এবং কুশিয়ারার উপনদী। ত্রিপুরার সাক্কানক্লাং পর্বতশ্রেণির কাহোইসিব চূড়ার নিচে এর উৎপত্তি; কিছু দূর পর্যন্ত এটি সরু গিরিখাতের ভেতর দিয়ে বয়ে চলে, দুই পাশে প্রায়ই ৩০ মিটার বা তার বেশি উঁচু খাড়া পাথরের দেয়াল। সমতলে নেমে এটি চওড়া, ধীরগতির, আঁকাবাঁকা নদী হয়ে যায়। কুলাউড়া উপজেলা দিয়ে মনু বাংলাদেশে ঢোকে, তারপর উত্তর-পশ্চিমে ও উত্তরে বাঁক নিয়ে মৌলভীবাজার সদরের মনুমুখে কুশিয়ারায় মেশে।

ধলাই কমলগঞ্জ উপজেলার প্রধান নদী। কমলগঞ্জের দক্ষিণ সীমানায় থাকা ত্রিপুরার পাহাড় থেকে নেমে এটি কমলগঞ্জ পেরিয়ে রাজনগর উপজেলায় মনুর সঙ্গে মিলিত হয়। ফলে দুই নদী জেলার পাশাপাশি দুই এলাকা, কমলগঞ্জ ও রাজনগরের পানি বয়ে নেয়, যেখানে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের দুটি বাঁধ ভাঙন ঘটে।

জুড়ী নদীরও উৎস ত্রিপুরার উত্তর-পূর্বের পাহাড়ে; এটি কুলাউড়া উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে, আন্তর্জাতিক সীমানা ধরে উত্তরে বয়ে কুলাউড়া পেরোয়, হাকালুকি হাওরের ভেতর দিয়ে গিয়ে পশ্চিমে বাঁক নিয়ে কুশিয়ারায় পড়ে। বাংলাদেশের ভেতরে এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৬ কিলোমিটার।

কুশিয়ারা সীমান্তের ওপার থেকে আরও বড় পরিসরে পানি বয়ে আনে। ভারতের বরাক নদী সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অমলসিদে সুরমা ও কুশিয়ারা, এই দুই শাখায় ভাগ হয়, আর বরাকের প্রবাহের প্রায় ৮৫ শতাংশ যায় কুশিয়ারা দিয়ে। নদীটি প্রায় ১৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ, গড়ে প্রায় ২৫০ মিটার চওড়া, বর্ষায় গভীরতা ১০ মিটার পর্যন্ত হয়, এবং এটি রাজনগর ও মৌলভীবাজার ছুঁয়ে যায়। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পাউবো যে শেরপুর পয়েন্টের পানির হিসাব দেয়, সেখানে এর সর্বোচ্চ মাপা প্রবাহ সেকেন্ডে ৩ হাজার ৭০০ ঘনমিটার।

বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশের বন্যাকে তিন ভাগে ভাগ করে: মৌসুমি বন্যা, যা ধীরে বাড়ে, ধীরে কমে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা ডোবায়; আকস্মিক বন্যা বা ঢল, যাতে পানি হঠাৎ বাড়ে ও হঠাৎ কমে, সাধারণত পাহাড়ি এলাকার উপত্যকায়; এবং জোয়ারজনিত বন্যা। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নেমে আসা পাহাড়ি অববাহিকাগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো আকস্মিক বন্যা, যা সাধারণত স্বল্পস্থায়ী, কিন্তু কখন কতবার কত তীব্রভাবে আসবে তা অনুমান করা কঠিন; এক বছরেই এসব নদীতে কয়েকবার বন্যা হতে পারে। ভাটিতে সিলেট অবনমন অঞ্চল, যেখানে সুরমা ও কুশিয়ারা মিলে মেঘনা হয়েছে, বর্ষার শুরুতেই দ্রুত ভরে যায় এবং পানি নামে ধীরে।

প্রধান সুরক্ষা হলো বাঁধ। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বড় সেচ প্রকল্পগুলোর মধ্যে বাংলাপিডিয়া মনু নদী প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে, যেখানে মনু ও কুশিয়ারার পাড় ধরে প্রায় ৫০ কিলোমিটার বাঁধ আছে। মৌলভীবাজার সদরের মনু ব্যারাজ জেলার উল্লেখযোগ্য স্থাপনার তালিকায় আছে।

সিলেটের বালাগঞ্জে কুশিয়ারা নদী; মৌলভীবাজারের মনুমুখে মনু নদী কুশিয়ারায় মিশেছে। ছবি: Minar ahmed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সিলেটের বালাগঞ্জে কুশিয়ারা নদী; মৌলভীবাজারের মনুমুখে মনু নদী কুশিয়ারায় মিশেছে। ছবি: Minar ahmed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

বর্ষায় ভরে ওঠা হাওর


বাংলাপিডিয়ার ব্যাখ্যায় হাওর হলো গামলার মতো বিশাল এক ভূতাত্ত্বিক নিম্নভূমি, যেখানে নদী ও খাল দিয়ে পানি এসে বর্ষায় বিস্তীর্ণ জলাশয় তৈরি হয় এবং বর্ষার পর বেশির ভাগ অংশ শুকিয়ে যায়। উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের হাওর অববাহিকার উত্তরে মেঘালয়ের পাহাড়, দক্ষিণে ত্রিপুরা ও মিজোরামের পাহাড় এবং পূর্বে মণিপুরের উচ্চভূমি; ওই পাহাড় থেকে আসা নদী বর্ষায় হাওরকে ছয় মিটার পর্যন্ত গভীরভাবে ডুবিয়ে দিতে পারে। মৌলভীবাজারের উল্লেখযোগ্য হাওর হাকালুকি, হাইল ও কাউয়াদিঘি।

হাকালুকি দেশের সবচেয়ে বড় হাওর এবং এশিয়ার বড় জলাভূমিগুলোর একটি। পাঁচ উপজেলাজুড়ে এর বিস্তার, যার তিনটি মৌলভীবাজারের (কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা) এবং দুটি সিলেট জেলার (গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ); আয়তন প্রায় ১৮১.১৫ বর্গকিলোমিটার, যার প্রায় ৪০ শতাংশ বড়লেখায়। হাওরে ২৩৮টির বেশি ছোট-বড় পরস্পর যুক্ত বিল আছে, কিছু সারা বছরের, কিছু মৌসুমি। বর্ষায় হাওর প্রায় ১৮ হাজার ৩৮৩ হেক্টর পর্যন্ত ডুবে যায় এবং পাঁচ মাস পর্যন্ত পানির নিচে থাকে, তখন সব বিল মিলে এক বিশাল হ্রদ হয়ে যায়।

হাওরে পানি আসে জুড়ী বা কন্টিনালা, সোনাই বা বরদল, দামাই, ফানাই ও কুইয়াছড়া নদী দিয়ে; এর মধ্যে বরদল বা সোনাই এবং জুড়ী বা কন্টিনালার উৎস ভারতে। হাওরের চারপাশে প্রায় ২ লাখ মানুষের বাস, যাঁদের প্রায় সবাই কমবেশি হাওরের সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর হাওর ডোবে বলে বসতিগুলো গড়ে উঠেছে এর সামান্য উঁচু প্রান্ত ধরে। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের আওতায় সরকার হাকালুকিকে প্রতিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে।

২০২৬ সালের জুলাইয়ের হিসাবের চার উপজেলার একটি রাজনগরে মনু, ধলাই ও কুশিয়ারার পাশাপাশি জলাশয়ের মধ্যে আছে কাউয়াদিঘি হাওর এবং ফারাক্কা ও পুখুরী বিল।

দেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকি, যা মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের দুই উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত। ছবি: Khowshik Bhowmik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
দেশের সবচেয়ে বড় হাওর হাকালুকি, যা মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের দুই উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত। ছবি: Khowshik Bhowmik / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

হিসাবের চার উপজেলা


বাংলাপিডিয়ার জেলা নিবন্ধ অনুযায়ী মৌলভীবাজার জেলার আয়তন ২ হাজার ৭৯৯.৩৮ বর্গকিলোমিটার, উপজেলা সাতটি। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ১৯ হাজার ৬২, আর ৪০.৩৭ শতাংশ খানার আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। জেলায় মণিপুরি, খাসিয়া, ত্রিপুরা ও হালাম জনগোষ্ঠীর বাস।

কমলগঞ্জের আয়তন ৪৮৫.২৬ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন নয়টি, তার মধ্যে ইসলামপুর, আদমপুর ও মাধবপুর; ২০১১ সালে জনসংখ্যা ছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ১৩০। প্রধান নদী ধলাই। প্রধান ফসল আমন ও আউশ ধান, গম, আখ, চা, সরিষা, আলু, পান ও সবজি; ৩৯.৭৭ শতাংশ খানার প্রধান আয় কৃষি। জাতীয় উদ্যান ঘোষিত লাউয়াছড়া এই উপজেলায়।

রাজনগরের আয়তন ৩৩৮.১৫ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন আটটি, তার একটি টেংরা, যেখানে ৯ জুলাই মনুর বাঁধ ভাঙে; ২০১১ সালে জনসংখ্যা ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৬৬। এখানে ৫১.৬১ শতাংশ খানার প্রধান আয় কৃষি; প্রধান ফসল ধান, চা, আলু, সরিষা, আদা, হলুদ ও সবজি। উপজেলায় পাকা সড়ক ছিল ১৪০ কিলোমিটার, আধাপাকা ৩০ কিলোমিটার আর কাঁচা সড়ক ২৭৮ কিলোমিটার।

যে কুলাউড়া দিয়ে মনু বাংলাদেশে ঢোকে, তার আয়তন ৫৪৫.৭৩ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন ১৩টি, ২০১১ সালে জনসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬০ হাজার ১৯৫। প্রধান নদী মনু, দক্ষিণে ত্রিপুরা, আর চা-বাগান ৩৩টি। মৌলভীবাজার সদরের আয়তন ৩৪৪.৩২ বর্গকিলোমিটার, ইউনিয়ন ১২টি, তার মধ্যে চাঁদনীঘাট ও মনুমুখ; ২০১১ সালে জনসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৪২ হাজার ৪৬৮। এর প্রধান নদী মনু ও বরাক, আর মনুর চাঁদনীঘাট পানিমাপক পয়েন্ট জেলা শহরেই।

জেলার আগের বন্যাগুলো


২০২৬ সালের জুলাইয়ের আগের দুই বছরেও একই নদীগুলো মৌলভীবাজারকে ডুবিয়েছে। ২০২৪ সালের জুন ও জুলাইয়ের শুরুতে কুশিয়ারা, জুড়ী ও মনুর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যায়। ২০২৪ সালের ৩ জুলাই ইউএনবির প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, পাঁচ উপজেলায় প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দি; জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ১৩৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানির নিচে, যার ৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আর প্লাবিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬৪টি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পাউবোর হিসাবে শেরপুরে কুশিয়ারা তখন বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার, চাঁদনীঘাটে মনু ২৬ সেন্টিমিটার এবং জুড়ী ১৮৪ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল।

২০২৪ সালের আগস্টে মনু ও ধলাই দিয়ে আসে দ্বিতীয় বন্যা। ২২ আগস্ট ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, ৩৭টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ২১২টি গ্রাম প্লাবিত, জেলা প্রশাসনের হিসাবে সাত উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ লাখ ২২ হাজার ৬৮৭ জন। রাজনগরের কদমহাটায় এবং কুলাউড়ার টিলাগাঁও ইউনিয়নের কয়েক জায়গায় মনুর বাঁধ ভেঙেছিল, আর চাঁদনীঘাটে মনু বইছিল বিপৎসীমার ১১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে। ২৫ আগস্টের মধ্যে জেলা প্রশাসনের হিসাবে সাত উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়ায় ২ লাখ ৩৭ হাজার ৯৫, ৪৭টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন ৮ হাজার ৫৬১ জন, আর বাঁধ ভেঙেছিল ২০ থেকে ২২ জায়গায়, পত্রিকাটি জানায়।

২০২৬ সালেও জুলাইয়ের বন্যা জেলার প্রথম বন্যা ছিল না। ২০২৬ সালের ৪ মে দ্য ডেইলি স্টার বাংলা জানায়, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর হিসাবে এই মৌসুমে যেখানে মাসে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি স্বাভাবিক, সেখানে এক মাসে প্রায় ৫৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যার প্রায় ৩০০ মিলিমিটার মাত্র তিন দিনে। কমলগঞ্জের আদমপুর ইউনিয়নে লাউয়াছড়া খালের বাঁধ ভেঙে গ্রাম প্লাবিত হয়, আর জুড়ী ও কুলাউড়ার হাওরে পানি বেড়ে বোরো ধান কাটা ব্যাহত হয়। জুড়ীর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, উপজেলায় বোরো আবাদ হয়েছিল ৬ হাজার ১৭০ হেক্টরে; কুলাউড়ার কৃষি কর্মকর্তা জানান, উপজেলার ৮ হাজার ৭২০ হেক্টর বোরোর মধ্যে ৩৮০ হেক্টর তখনই জলাবদ্ধ।

এ অঞ্চলের বন্যার লিখিত ইতিহাস বহু পুরোনো। বাংলাপিডিয়ার কালানুক্রমে আছে ১৭৮১ সালের ভয়াবহ বন্যার কথা, যা পশ্চিম সিলেটে বেশি প্রকট ছিল এবং গোখাদ্যের অভাবে গবাদিপশু খুব কষ্ট পায়; আর ১৭৮৬ সালের বন্যার কথা, যখন সিলেটের পরগনাগুলো পুরোপুরি পানির নিচে চলে যায়, বেশির ভাগ গবাদিপশু ডুবে মরে এবং বেঁচে থাকা পশুদের বাঁশের ভেলায় রাখা হয়। সারা দেশে গড় বছরে প্রায় ২৬ হাজার বর্গকিলোমিটার, অর্থাৎ দেশের ১৮ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়, আর বড় বন্যায় ৫৫ শতাংশের বেশি এলাকা ডুবে যেতে পারে।

নদীর ওপর নজর রাখে কারা, ত্রাণ দেয় কারা


২০২৬ সালের জুলাইয়ে যার মৌলভীবাজার দপ্তর নদীর পানির হিসাব দেয়, সেই বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গঠিত হয় ১৯৭২ সালে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পানি শাখা থেকে; ২০০০ সাল থেকে এটি চলছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড আইনের অধীনে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচের জন্য বাঁধ, ব্যারাজ ও রেগুলেটর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং বন্যা ও খরার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা দেওয়া এর কাজের মধ্যে পড়ে। বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জাতীয় বন্যা বুলেটিন প্রকাশ করে।

ত্রাণের দায়িত্ব দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের, যার আইনি কাঠামোর মধ্যে আছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২। অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত কর্মসূচির মধ্যে আছে ত্রাণ সহায়তা, ভিজিএফ, টেস্ট রিলিফ, কাবিখা ও কাবিটা, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র এবং সেতু ও কালভার্ট, সঙ্গে বন্যার জন্য চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ। জেলায় এসব কাজ হয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের মাধ্যমে; ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এই কার্যালয়ই মৌলভীবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ঘর গুনেছে এবং ঢেউটিন, চাল, নগদ অর্থ ও শুকনা খাবার বিতরণ করেছে।

বৃষ্টির হিসাব রাখে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর; মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে এর আবহাওয়া অফিসই জুলাইয়ের শুরুর বৃষ্টি রেকর্ড করে। ঢাকা ট্রিবিউন জানায়, ২০২৬ সালের ৯ জুলাই অধিদপ্তর সিলেটসহ আট বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল।

ছবি: Rocky Masum / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ (১৫ জুলাই ২০২৬), দ্য ডেইলি স্টার বাংলা (১০ ও ১১ জুলাই ২০২৬, ৪ মে ২০২৬), ঢাকা ট্রিবিউন (৯ জুলাই ২০২৬; ৩ জুলাই, ২২ ও ২৫ আগস্ট ২০২৪), বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (১০ জুলাই ২০২৬), দৈনিক ইনকিলাব (১০ জুলাই ২০২৬), বাংলাপিডিয়া (এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

বাংলাদেশ

AEZ-০৭: সক্রিয় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা প্লাবনভূমি, যেখানে নদী জমি গড়ে আবার কেড়েও নেয়

নদীভাঙন, নতুন চর, বালু-পলির মাটি আর অনিশ্চিত বন্যার মৌসুম। কুড়িগ্রাম থেকে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার হেক্টরের এই অঞ্চলে কৃষিকে টেকসই করতে দরকার জমিভিত্তিক তথ্য, উপগ্রহচিত্রের পর্যবেক্ষণ আর সময়মতো পরিকল্পনা।

তানিয়া চৌধুরী১ নভেম্বর ২০২৬১৩ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

বরেন্দ্রে বছরে ০.৬ মিটার পর্যন্ত নামছে পানির স্তর, সমন্বিত পানিনীতির দাবি

রাজশাহীতে নীতি সংলাপে বিশেষজ্ঞ ও জনপ্রতিনিধিরা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানি, খাল-বিল সংস্কার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও কম পানির ফসলের ওপর জোর দিয়েছেন।

বাসস১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

দুই উৎসের বর্জ্য ঠেকালে হালদার ৮০ শতাংশ দূষণ কমতে পারে, বলছেন গবেষকেরা

অনন্যা আবাসিক এলাকা হয়ে আসা সিটি করপোরেশনের বর্জ্য আর বাহির সিগন্যাল শিল্প এলাকার বর্জ্য সামলাতে পারলে হালদার দূষণ অনেকটাই কমবে; এ বছর মা-মাছের ডিম মিলেছে প্রায় ৬ হাজার কেজি।

দৈনিক বাংলা১ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)