বন ও ভূদৃশ্য পুনরুদ্ধার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, জীববৈচিত্র্য হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার একটি সাশ্রয়ী উপায়, বলছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান প্রতিবেদন 'স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ডস ফরেস্টস ২০২৬' (SOFO)। সোমবার সংস্থার বন বিষয়ক কমিটির অধিবেশনে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সতর্ক করেছে, কাজের পরিসর বাড়াতে আরও বিনিয়োগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ও টেকসই রাজনৈতিক অঙ্গীকার লাগবে।
বিশ্বে বন আছে ৪১৪ কোটি হেক্টর জমিতে, পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় ৩২ শতাংশ। বনে জমা আছে ৭১৪ গিগাটন কার্বন, আর স্থলজ জীববৈচিত্র্যের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বনেই। বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার জন্য বন ও গাছের ওপর নির্ভর করে। অথচ ১৯৯০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আনুমানিক ৪৮ কোটি ৯০ লাখ হেক্টর বন উজাড় হয়েছে, ৪৬ কোটি হেক্টরের বেশি বন অবক্ষয়িত, আর সব মিলিয়ে অবক্ষয়িত জমি ১৫৬ কোটি হেক্টর। প্রতিবছর প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ হেক্টর বন আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রতিবেদনের যুক্তি, কিছু না করার খরচই বেশি। অবক্ষয়িত বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার না করায় বছরে ক্ষতি আনুমানিক ৮৭৮ বিলিয়ন থেকে ৬.৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বার্ষিক জিডিপির ২ থেকে ৮.৩ শতাংশ। অন্যদিকে ১০০ কোটি হেক্টরের বেশি জমি পুনরুদ্ধার করলে স্বাস্থ্যকর মাটি ও ভালো পানি ব্যবস্থাপনাসহ বছরে ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের সুফল মিলতে পারে। অনুকূল পরিস্থিতিতে প্রতি ১ ডলার বিনিয়োগে ৩০ ডলার পর্যন্ত ফেরত আসে।
৯১টি দেশ ও অঞ্চলের সরকার ১৯ কোটি হেক্টরের বেশি বন পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু এখন পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে মাত্র ২০ কোটি ৬৫ লাখ হেক্টরে। বিশ্লেষিত ১৮টি উদাহরণের মধ্যে আছে সাহারা ও সাহেলের গ্রেট গ্রিন ওয়াল, চীনের থ্রি নর্থ প্রোগ্রাম এবং আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ের ত্রিদেশীয় আটলান্টিক ফরেস্ট চুক্তি।
প্রতিবেদনে চারটি পথ দেখানো হয়েছে: মানুষের অধিকার ও জ্ঞানকে কেন্দ্রে রাখা, সংরক্ষণ, উৎপাদন ও জীবিকার ভারসাম্য রেখে ভূদৃশ্যের মাপে পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা, দীর্ঘমেয়াদি ফলের সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন মেলানো এবং সুসংগত নীতি ও আইন। মুখবন্ধে এফএও মহাপরিচালক কু দংইউ (QU Dongyu) লিখেছেন, কাজের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
ছবি: ©এফএও
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)